বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিবিসির খবরে জানা যায়, অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ১৫ বছরের ওই রান্না ছিল শুরু। কিশোর বয়সে রান্নায় হাতেখড়ির পর গত চার দশকে হাজার হাজার রান্না করেছেন তিনি। তাঁর রান্না রসুইঘরে সীমাবদ্ধ নেই; অসংখ্যবার রান্নার অভিজ্ঞতা লিখেছেন।

চিকি সরকার যা–ই বলুন না কেন, নিঃসন্দেহে বলা যায়, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় রন্ধনশিল্পী হিসেবেও কম যান না। ‘কুকিং টু সেভ ইয়োর লাইফ’ নামে লেখা তাঁর বইটি এ সপ্তাহেই প্রকাশিত হয়েছে। বইটি বিশেষত্ব হলো এতে কেবল মুখরোচক খাবারের রন্ধনপ্রণালিই নেই; আছে আরও নানা তথ্য। বইটি পড়লে জানা যাবে, কোন উপলক্ষে কোন রান্না করে চমকে দেওয়া যায়।

অভিজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এ বই লেখার পেছনেও গল্প আছে। বড়দিন উপলক্ষে অভিজিৎ তাঁর শ্যালকের কাছে পাঠানোর জন্য কিছু রন্ধনপ্রণালির তালিকা তৈরি করেন। সে সময় তাঁর মনে আসে বই প্রকাশের কথা।

বই সম্পর্কে এ অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘রান্না একধরনের সামাজিকতা। কোনো না কোনো উপলক্ষে রান্না করা হয়। মাঝেমধ্যে খাবার রান্না করে আপনাদের পরিবারকে উপহার দিতে পারেন। আবার কখনো কাউকে খুশি করতে রান্না করা হয়। কখনো আবার রান্নার মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করা যায়।’

default-image

‘কুকিং টু সেভ ইয়োর লাইফ’ বইয়ে অভিজিৎ কোন উপলক্ষে কোন রান্না, তারও পরামর্শ দিয়েছেন। আছে স্প্যানিশ খাবারের আদলে ছোলার স্যুপের রন্ধনপ্রণালি। বিয়ের প্রস্তাবের সময় এই স্যুপ খুবই মানানসই খাবার বলে মনে করেন অভিজিৎ। কেতাদুরস্ত কোনো বন্ধুকে আবার চমকে দেওয়া যায় বাঙালি মাছের ঝোল রান্না করে। মরক্কোর সালাদ বদলে দিতে পারে আলোচনার মোড়। আর রাতে পানীয়র পর ভারী বিরিয়ানি।

সাধারণত, রন্ধনপ্রণালির বইগুলোয় থাকে বিভিন্ন খাবারের চকচকে ছবি। এর বদলে শেয়েন অলিভারের আঁকা ছবি রয়েছে অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বইয়ে। পারিবারিক বন্ধু হিসেবে অভিজিতের সঙ্গে তিনি প্রায়ই রান্না করেছেন।

অলিভার বলেন, ‘খাবার দেখতে কেমন হবে, এর পরিবর্তে মানুষ কেমন স্বাদের খাবার খেতে চায় বা পছন্দ করে, তাতেই জোর দেওয়ার চেষ্টা করেছি আমরা।’

রান্না শুধু নিত্যনৈমিত্তিক কাজ নয়, মানসিক নানা চাপ থেকেও মুক্তি দিতে পারে। অভিজিৎ বলছেন, অভিজ্ঞ রাঁধুনিরা এই বইয়ে রান্নার বিষয়ে খুব বেশি নতুন কিছু নাও পেতে পারেন। তবে বইটি তাঁদের রন্ধনপ্রণালির বাইরেও রান্না সম্পর্কে নতুন ভাবনার খোরাক জোগাবে।

অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কর্মজীবনের বেশির ভাগ সময় ব্যয় করেছেন অর্থনীতিতে। অর্থনীতি নিয়ে নানা বিশ্লেষণ করেছেন। দরিদ্রদের জীবনযাপন এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ ছিল তাঁর। এ অর্থনীতিবিদ বলেন, ধনী বা দরিদ্র যা–ই হোন না কেন, সুস্বাদু খাবার খেলে যে আনন্দ পাওয়া যায়, তা সবকিছুর চেয়ে আলাদা।

অল্প উপকরণ ব্যবহার করে সুস্বাদু সব খাবার রান্নার উপায় বলেছেন অভিজিৎ। কম উপকরণ ও অল্প সময়ে ঠিকঠাক খাবার কীভাবে রান্না করা যায়, শিখিয়েছেন সেই কৌশল। যেমন বেশি সবজি ও অল্প মাংস দিয়ে সুস্বাদু খাবারের রন্ধনপ্রণালি শিখিয়েছেন অভিজিৎ। লাল মাংস যাঁরা পছন্দ করেন, তাঁরা অভিজিতের রন্ধনপ্রণালি অনুসারে রান্না করে মুরগি–সবজি খেয়ে শান্ত হতে পারেন। এই বই পড়লে ঘরে চিনি শেষ হয়ে গেলেও ১৫ মিনিটেই বানিয়ে ফেলতে পারবেন মিষ্টিজাতীয় দারুণ খাবার।

অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বইয়ে নেপাল থেকে সিসিলি পর্যন্ত নানা দেশের বিভিন্ন স্বাদের খাবারের রন্ধনপ্রণালি রয়েছে। আছে প্রচুর বাঙালি খাবার। নারকেলের দুধে সেদ্ধ করা চিংড়ি থেকে শুরু করে খিচুড়ি পর্যন্ত। অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তাঁর সবচেয়ে প্রিয় খাবারগুলোর মধ্যে একটি হলো এই খিচুড়ি।

ভারতের মজাদার সব স্ট্রিট ফুডের রান্নাও শেখা যাবে এ বই পড়ে। মসলাদার বাদাম, আলুর টক, দক্ষিণ ভারতের আম বাঙ্গিনাপাল্লির রন্ধনপ্রণালি—কী নেই এতে!

ডাল মানবসভ্যতার অন্যতম অবদান বলে মনে করেন অভিজিৎ। বইয়ে আছে তিন রকম ডালের রন্ধনপ্রণালি। এতেই চমকে যাবেন না; অন্তত ২০ রকম ডাল রান্না করতে পারেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ। তবে তিনি মনে করেন, এই তিন রকম ডাল রান্না করতে পারলেই অন্যগুলো পারা যাবে।

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন