default-image

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পঞ্চম দফা ভোটগ্রহণ শেষে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি উভয় দলই বিজয়ী হওয়ার আশা প্রকাশ করেছে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, এই পাঁচ দফার ভোটে বিজেপি ‘সাফ’ হয়ে গেছে, বিপুল ভোটে জিততে চলেছে তৃণমূল। আর বিজেপি নেতা অমিত শাহ বলেছেন, বিজেপির জয় নিশ্চিত হয়ে গেছে, বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে দিদির।

২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হচ্ছে আট দফায়। গতকাল শনিবার ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচ দফা ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এই পাঁচ দফায় ১৮০টি আসনের ভোট নেওয়া হয়। এখন বাকি আছে আরও ১১৪টি আসনের ভোট। আগামী ২২, ২৬ ও ২৯ এপ্রিল এসব আসনে ভোটগ্রহণ হবে। ফলাফল ঘোষণা হবে ২ মে।

বিজ্ঞাপন

গতকাল ৫ দফার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী ও গলসিতে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল নেত্রী মমতা বলেন, ‘এবার মোদি যাবেন। আমি থাকব। আমি মানুষের মনোভাব বুঝি। ছোট থেকে রাজনীতি করি। দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসবে তৃণমূল।’

সারা বাংলায় ঘুরে কোথাও বিজেপি আসার আভাস পাননি বলে দাবি করেছেন মমতা। ‘মানুষ বিজেপিকে বিশ্বাস করে না, ভালোবাসে না। ওরা এবার গোল্লা পাবে,’ বলেছেন তিনি।

তার মতোই নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজ রোববার দুপুরে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের পূর্বস্থলীর জামালপুরে বিজেপির এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেছেন, ‘আগামী ২ মে দিদির পরাজয় নিশ্চিত হচ্ছে। এই ৫ দফার ভোটে বিজেপি ১৮০ আসনের মধ্যে এগিয়ে আছে ১২২টি আসনে। বাকি ৩ দফার নির্বাচনে দুই শতাধিক আসনে জয়ী হয়ে বিজেপি এই বাংলায় সরকার গড়বে।’

মমতাকে কটাক্ষ করে অমিত শাহ বলেন, ‘দিদি আপনি সেরে উঠুন ২ মে যাতে হেঁটে রাজভবনে যেতে পারেন। কারণ ২ মে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে।’

তার দাবি, পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচনে তুমুল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠা নন্দীগ্রামে ‘হেরে গেছেন’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে জিতছেন শুভেন্দু অধিকারী।

বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির সদস্য অমিত শাহ বলেন, এই বাংলারই এক ভূমিপুত্রকে এখানকার মুখ্যমন্ত্রী করা হবে। বিজেপি ক্ষমতায় এসে পশ্চিমবঙ্গকে অনুপ্রবেশ মুক্ত করবে। মতুয়াসহ নমশূদ্র ও রাজবংশীদের নাগরিকত্ব দেবে। এই রাজ্যে চালু করা হবে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প। এতে করে ৫ লাখ রুপির চিকিৎসার গ্যারান্টি পাবেন গরিব মানুষ।

অপরদিকে মমতা বলেছেন, এই বাংলায় এনআরসি ও এনপি হতে দেবেন না তাঁরা।
পশ্চিমবঙ্গে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য বিজেপিকে দায়ী করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ওরাই গুজরাট থেকে প্যান্ডেল করার কারিগর আনে। সেই সঙ্গে আনে করোনা রোগ। এই বাংলায় করোনা ছড়িয়েছে বিজেপি।

বিজ্ঞাপন
বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন