কীভাবে ইউক্রেনকে আরও অস্ত্র দেওয়া যায়, সেই বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে মিত্র ৪০ দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জন্য জার্মানিতে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটি রামস্টেইনে সম্মেলনের আয়োজন করে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও পশ্চিমা শক্তিগুলো ইউক্রেন যুদ্ধে সরাসরি সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে অনিচ্ছুক। পশ্চিমাদের আশঙ্কা, ইউক্রেন যুদ্ধে তারা সরাসরি জড়ালে সামরিক সংঘাত ইউক্রেন থেকে অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে বড় ধরনের যুদ্ধ বেধে যাওয়ার আশঙ্কা করছে তারা। তাই ইউক্রেন সরকারের আহ্বানের পরও সরাসরি যুদ্ধে না গিয়ে দেশটিকে বিভিন্নভাবে সহায়তা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো।

সেই কথায় কিয়েভ সফরে গিয়ে অস্টিন বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, ইউক্রেনকে যদি সঠিক অস্ত্র-সরঞ্জাম সরবরাহ করা যায়, তাহলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনই জয়ী হবে।’ বাইডেন প্রশাসনের ওই দুই মন্ত্রী ইউক্রেনকে আরও ৭০ কোটি মার্কিন ডলারের সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।

জার্মানি বলছে, তারা ইউক্রেনকে বিমানবিধ্বংসী ট্যাংক সরবরাহ শুরু করবে। ইউক্রেনে ৫০টি বিমানবিধ্বংসী ট্যাংক সরবরাহের বিষয়টি গতকাল অনুমোদন করে জার্মান সরকার। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মস্কোর বিষয়ে বার্লিনের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর বিষয়টি ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চলে রাশিয়ার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ করতে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে শক্তিশালী করতে চায় পশ্চিমা দেশগুলো। ড্রোন, বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং পশ্চিমা সংস্থাগুলোর অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সরঞ্জাম রাশিয়ার সামরিক শক্তির অগ্রগতি রুখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আর সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে পশ্চিমা শক্তি।

তবে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ সতর্ক করেছেন, ইউক্রেন সংঘাত ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকিতে’ ফেলতে পারে। সোমবার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লাভরভ বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে এ ঝুঁকি আছে, আপনি একে ছোট করে দেখতে পারেন না।’

লাভরভ বলেন, ইউক্রেনে পশ্চিমা অস্ত্র সরবরাহের অর্থ ন্যাটো জোট এক অর্থে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছে। যুদ্ধ অর্থ যুদ্ধই। পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো রাশিয়ার সঙ্গে এক অর্থে যুদ্ধে লিপ্ত। তারা ছায়াযুদ্ধ করে যাচ্ছে এবং অস্ত্র জুগিয়ে যাচ্ছে।

সের্গেই লাভরভ আরও বলেন, ‘পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকিও রয়েছে যথেষ্ট। তবে মস্কো কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট এ ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি এড়াতে চায়। আমি কৃত্রিমভাবে সে ঝুঁকি বাড়াতে চাই না। তবে অনেকেই তা চাইবেন।’ পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিপদটি গুরুতর, বাস্তব এবং আমাদের এটিকে অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়।’
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অষ্টম সপ্তাহে পড়েছে। ইতিমধ্যে ইউক্রেনের বিপর্যস্ত প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে অস্ত্র ও অন্যান্য সহায়তা প্রদানকারী পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন