কিকিকে হারানোর এক বছর পর আন্তেভ ও তাঁর পরিবার অন্টারিওতে স্থানান্তরিত হয়। তবে আন্তেভ তাঁর ফোন নম্বর স্থানীয় কোডে পরিবর্তন করতে অস্বীকৃতি জানান। কারণ, তাঁর মনঃপ্রার্থনা ছিল, কিকির সঙ্গে থাকা মাইক্রোচিপটির সূত্র ধরে যদি তাকে পাওয়া যায়।

আন্তেভের ভাষ্য, কিকি সব সময় একটি সেরা বিড়াল। সে শুধু একটু আদর চায়। একবার তার সঙ্গে যাঁর দেখা হয়েছে, তিনি বলতে পারবেন কেন বিড়ালটি হারাতে চাওয়ার নয়। তিনি বলেন, তাঁর পরিবারের সদস্যরা কিকিকে খুঁজে পেতে লিফলেট বিতরণ, চিহ্ন অনুসরণ ও বিভিন্ন স্থানে ডাকাডাকির মতো বিষয়গুলোর আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘কিকিকে ধরতে আমরা খাবার রেখে দিয়েছিলাম, ফাঁদ পেতে ছিলাম। কিন্তু কোনো কিছুতেই কাজ হয়নি।’

পাঁচ বছরের মাথায় কিকির দেখা মিলেছে হেনা কাদরি নামের এক নারীর সঙ্গে। যিনি আন্তেভদের সাবেক বাড়ি এডমন্টোন থেকে ১০ মিনিটের গাড়িচালনা–দূরত্বে র‌্যাপার্সউইলে বসবাস করেন। হেনা কাদরি বলেন, সম্প্রতি তিনি তাঁর বাড়িতে ছোট বিড়ালটির দেখা পান। এরপর তিনি তাকে খাবার দিতেন। এর মধ্যে এক দিনেই বিড়ালটি তিনবার তাঁর বাড়িতে খাবারের জন্য আসে। তখন তিনি এক প্রতিবেশীর সহায়তায় বিড়ালটির ছবি তুলে তা স্থানীয় ফেসবুক পেজে পোস্ট করেন।

কাদরি বলেন, পাশাপাশি প্রতিবেশীরা বিড়ালটিকে স্থানীয় পশু চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। তখন সেখানে বিড়ালটির মাইক্রোচিপটি স্ক্যান করে বহু আগে হারিয়ে যাওয়া কিকির পরিচয় পাওয়া যায়।

আন্তেভ বলেন, ‘পাঁচ বছর পর এমন একটি ফোনকল, ভাবতেও পারিনি। পশু চিকিৎসক বললেন তাঁরা কিকিকে পেয়েছেন। আমি একদম স্তব্ধ হয়ে গেলাম।’

পরে আন্তেভের এক বন্ধু চিকিৎসকের কাছ থেকে কিকিকে সংগ্রহ করেন। সেখান থেকে তাকে ফ্লাইটে করে অন্টারিওতে নেওয়া হয়। আন্তেভ বলেন, কিকি এখন তার নতুন বাসার সঙ্গে ভালোভাবেই মানিয়ে নিয়েছে। এখন সেখানে ঘরে-বাইরে তার চমৎকার সময় কাটছে। আন্তেভের ভাষ্য, কিকিকে আটকে রাখতে ঘরের দরজা বন্ধ করে রাখতে হবে, তাতে তিনি বিশ্বাস করেন না। তাঁর বিশ্বাস, কিকি অন্তত তাঁদের ছেড়ে আর কোথাও যাচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এক নারী চুরির ১০ বছরের মাথায় তাঁর পোষা কুকুর ফিরে পেয়েছিলেন।

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন