পানামা পেপারস ফাঁস হওয়ায় অনেকেরই কেলেঙ্কারির তথ্য ফাঁস হয়। কিন্তু এই তথ্য ফাঁস করেছে কে? সেটা এত দিন অজানাই ছিল। এবার ওই তথ্য ফাঁসকারী মুখ খুলেছেন। তিনি বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, সংশ্লিষ্টদের বিচারের মুখোমুখি করার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সহযোগিতা করতে চান তিনি। আর এর বিনিময়ে তিনি চান নিরাপত্তা। খবর বিবিসি অনলাইনের।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই তথ্য ফাঁসকারী নিজেকে ‘জন ডো’ বলে পরিচয় দিয়ে ১৮ শ শব্দের এক বিবৃতি দিয়েছেন। বলেছেন, তিনি কখনো কোনো গোয়েন্দা সংস্থা বা সরকারের পক্ষে কাজ করেননি। তার উদ্দেশ্য ছিল ‘আয়ের সমতা’। পানামা পেপারস দেখিয়েছে, কীভাবে কিছু সম্পদশালী লোক অফশোর কোম্পানির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ কর ফাঁকি দিয়েছেন ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিজ দেশ থেকে অর্থ সরিয়েছেন।
জন ডো নিজের সম্পর্কে আর কিছুই উল্লেখ করেননি। তাঁর পরিচয় এমনকি তিনি নারী না পুরুষ তাও জানা যায়নি।
বিবৃতিতে জন ডো বলেন, ‘আমাদের এই সময়ে আয়ের সমতা খুব বড় ব্যাপার। পানামা পেপারস থেকে কয়েক হাজার অপরাধীকে দণ্ড দেওয়া যাবে যদি আইন শৃঙ্খলা আসল নথিগুলো দেখে ও পর্যবেক্ষণ করে। আমি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সহায়তা করতে রাজি, কারণ আমি সেটা করতে সক্ষম।’
জন ডো যে নথিগুলো ফাঁস করেন, সেগুলো মোসাক ফনসেকা নামে পানামার একটি আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের। প্রতিষ্ঠানটির এক কোটি ১৫ লাখ গোপন নথি ফাঁস হয় গত ৪ এপ্রিল। এসব নথিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নিকটাত্মীয়দের নাম আসে। নাম আসে সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ বিন আবদুল রহমান আল সৌদ, মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের এক ছেলে এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দুই ছেলে ও এক মেয়ের নাম।
রাজনৈতিক ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের পাশাপাশি ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি, ভারতের চলচ্চিত্রজগতের খ্যাতিমান অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন ও তাঁর পুত্রবধূ অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাইয়ের নামও আসে ওই নথিতে।
মোসাক ফনসেকার ওই এক কোটি ১৫ লাখ নথি অজানা সূত্র থেকে জার্মান দৈনিক জিটডয়েচ সাইতং-এর হাতে আসে। পত্রিকাটি সেসব নথি ওয়াশিংটনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টসকে (আইসিআইজে) দেয়। ১৯৭৭ থেকে ২০১৫ সালের এসব নথি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তার কিছু অংশ আইসিআইজে প্রকাশ করে।

বিজ্ঞাপন
বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন