বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পেগাসাসের মাধ্যমে আড়ি পাততে শতাধিক সরকারি কর্মকর্তার স্মার্টফোন টার্গেট করা হয়। তাঁদের মধ্যে আছেন তিনজন বর্তমান প্রেসিডেন্ট, তিনজন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, সাতজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও একজন বাদশাহ। তবে তাঁরা কেউ তাঁদের ফোনের ফরেনসিক বিশ্লেষণ করার অনুমতি দেয়নি। বর্তমান তিন প্রেসিডেন্ট হলেন ফ্রান্সের এমানুয়েল মাখোঁ, দক্ষিণ আফ্রিকার রামাফোসা ও ইরাকের প্রেসিডেন্ট বারহাম সালিহ।

বর্তমান তিন প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ইমরান খানা ছাড়াও আছেন মিসরের প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা মাদবৌলি ও মরক্কোর প্রধানমন্ত্রী সাদ এদ্দিন আল ওসমানি।

default-image

সাবেক সাতজন প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আছেন ইয়েমেনের ওবায়েদ বিন দাগর, লেবাননের সাদ হারিরি, উগান্ডার রুখানা রুগুন্ডা, ফ্রান্সের দোরাদ ফিলিপ, কাজাখস্তানের বাকিতজান সাগিনতায়েব, আলজেরিয়ার নুরেদ্দিন বেদোই এবং বেলজিয়ামের চার্লস মাইকেল। আর আছেন মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ। বলা হচ্ছে, সাত প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতাসীন থাকার সময় তাঁদের ফোনে আড়ি পাতা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম এই ১৪ বিশ্বনেতার ফোন নম্বরে টার্গেট করার কথা উল্লেখ করেছে। তবে নম্বরগুলো সচল না বন্ধ, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন রাষ্ট্রপ্রধান গণমাধ্যমকে তাঁদের নম্বরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত সোম ও মঙ্গলবার তালিকায় থাকা রাষ্ট্রপ্রধানদের নম্বরে কল দেওয়া হলে অনেকেই কল কেটে দিয়েছেন, কেউ কেউ ফোন নম্বর বদলে ফেলেছেন। অল্প কয়েকজন কল রিসিভ করেছেন, আর অন্যরা মেসেজের মাধ্যমে সাড়া দিয়েছেন।

ওয়াশিংটন পোস্টকে এনএসও গ্রুপের প্রধান নির্বাহী শালেভ হুলিও বলেছেন, ‘আমাদের সিস্টেমের অপব্যবহার নিয়ে অভিযোগের ব্যাপারে আমি উদ্বিগ্ন। এটা ক্রেতাদের বিশ্বাসে ফাটল ধরাতে পারে, এর প্রতিটি অভিযোগ যাচাই করা উচিত বলে আমি বিশ্বাস করি। অভিযোগ যাচাইয়ের পরে হয়তো কিছু সত্যতাও মিলতে পারে। বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া গেলে এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আড়ি পাতার ঘটনার প্রাথমিক অনুসন্ধান করে এনএসও জানিয়েছে, তাঁরা স্পাইওয়্যার ব্যবহারকারীদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে। তাদের বিরুদ্ধে প্রযুক্তির অপব্যবহারের অভিযোগ পেলে তাদের অ্যাকসেস বাতিল করা হয়। আড়ি পাতাসহ যেকোনো কর্মকাণ্ডের জন্য সংশ্লিষ্ট ক্রেতা দায়ী। এ ক্ষেত্রে তাদের কোনো দায়ভার নেই।

default-image

তবে মঙ্গলবার পাঠানো এক চিঠিতে তালিকায় তিনজনকে টার্গেট করার বিষয়টি অস্বীকার করেছে কোম্পানিটি। তাঁরা হলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ, মরক্কোর প্রেসিডেন্ট ষষ্ঠ মোহাম্মদ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাসচিব তেদরোস আধানোম গ্যাব্রেয়াসুস। এ ছাড়া ফ্রান্স ও বেলজিয়ামের সরকারি কর্মকর্তা ও কূটনীতিকদের পেগাসাস কখনো টার্গেট করেনি বলে দাবি তাদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনএসও গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি বলেছেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার করায় সম্প্রতি মেক্সিকোর একটি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে তারা। তবে প্রতিষ্ঠানটির নাম বলতে রাজি হননি তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী দেশ মেক্সিকোতেও পেগাসাসের ঘটনা ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। দেশটির ১৫ হাজারের বেশি ফোন নম্বরে আড়ি পাতা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

রাষ্ট্রপ্রধানদের পাশাপাশি বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও এই তালিকা থেকে রেহাই পাননি। এতে দেখা গেছে, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি ও কূটনীতিকের নাম আছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বর্তমান মহাসচিবের সাবেক কিছু সদস্যের নামও এই তালিকায় রয়েছে।

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন