default-image

কনকনে ঠান্ডায় জমে যাওয়ার দশা। কথা বলারও কোনো সঙ্গী নেই। সঙ্গী বলতে কেবল পেঙ্গুইন। পানি, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট কিছুই নেই। এক মাসে একবার গোসল করতে পারাটাই সৌভাগ্যের ব্যাপার। এভাবে থাকতে পারলে বরফের রাজ্য অ্যান্টার্কটিকার এক দ্বীপের শীতল ডাকঘরে চাকরি মিলবে। মাসে নগদ এক হাজার ৭০০ ডলার বেতন। আর এই চাকরি পেতে ভিড় জমেছে প্রার্থীদের। সাবেক সরকারি চাকুরে, বিজ্ঞানী, শিক্ষক, ছাত্র কেউই বাদ নেই প্রার্থীর তালিকা থেকে।

আইএএনএসের খবরে জানানো হয়, অ্যান্টার্কটিকার পোর্ট লকরয়ের দ্বীপের ওই ডাকঘরে চাকরি নিতে এক হাজার প্রার্থীর আবেদনপত্র জমা পড়েছে। এতসব বাধা থাকলেও দক্ষিণ মেরুর বিস্তীর্ণ প্রান্তর অ্যান্টার্কটিকার ওই ডাকঘরে চাকরি করতে ইচ্ছুক লোকের অভাব নেই।

যুক্তরাজ্যের অ্যান্টার্কটিক হেরিটেজ ট্রাস্ট জানায়, পোর্ট লকরয়ের ওই ডাকঘরে চাকরির জন্য তাদের কাছে বহু আবেদনপত্র জমা পড়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের ক্লিকের চাপে তাদের ওয়েবসাইট তিনবার ক্র্যাশ করে।

অ্যান্টার্কটিকের উত্তরে গোইদর দ্বীপের একটি এলাকার নাম পোর্ট লকরয়। এর আয়তন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি খেলার মাঠের সমান। কিন্তু এখানে কোনো ছুটে চলা জলধারা নেই। দ্বীপের সাধারণ তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ১০ ডিগ্রি নিচে থাকে। জায়গাটি এত প্রত্যন্ত যে সেখানে কোনো হেলিকপ্টারও যায় না। এর অর্থ হলো, কাছাকাছি এলাকার কোনো চিকিৎসকের কাছে যেতেও তিন দিন সময় লাগবে। চলাচলের একমাত্র মাধ্যম হলো জাহাজ। সেখানে কোনো ইন্টারনেট বা ওয়াইফাই নেই। ফোনের সংযোগ নেই। যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হলো বেতার।

অ্যান্টার্কটিক হেরিটেজ ট্রাস্টের দেওয়া চাকরির বিজ্ঞাপনে বলা হয়, আপনি কি এক মাস ধরে গোসল না করে থাকতে পারবেন বা দুই হাজার পেঙ্গুইনের সঙ্গে পাঁচ মাস ধরে বাস করতে পারবেন? চাকরিপ্রার্থীদের আবেদনপত্রের হিড়িক থেকে বোঝা গেল—এভাবে থাকতে অনেকেরই আপত্তি নেই। চাকরিপ্রার্থীদের বড় ও ভারী একটি বাক্স, শক্ত ও নরম বরফে চলাচলের উপযোগী জুতা নিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

১৯৪৪ সালে গবেষণা স্টেশন হিসেবে পোর্ট লকরয় চালু হয়। ১৯৬২ সালে বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৯৬ সালে আবার এটি চালু হয়। অ্যান্টার্কটিক চুক্তি অনুসারে এটি একটি জীবন্ত জাদুঘর হিসেবে বিবেচিত হয়। ডাকঘরের চাকরির ওই বিজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে, তাঁদের দুই হাজার পেঙ্গুইনকে সঙ্গ দিতে হবে। পোর্ট লকরয়ে যাঁরা চাকরি করেন, তাঁরা নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত কাজ করেন। এ সময় ওই দ্বীপের দোকান খোলা থাকে। ডাকঘর ও জাদুঘর থাকে কর্মচঞ্চল। এই মৌসুমে ১৮ হাজার প্রমোদতরী ওই এলাকায় যান। দূরদূরান্ত থেকে অনেকেই সেখানে ঘুরতে যান। এই এলাকাটিতে বিখ্যাত একটি উপহারসামগ্রীর দোকান রয়েছে।

ট্রাস্টের দাবি, ওই এলাকাটি থাকার জন্য আরামদায়ক। যদিও সেখানে বিদ্যুৎ, তাপ বা যোগাযোগের অভাব রয়েছে। সেখানে কখনো অন্ধকার নামে না। ২৪ ঘণ্টা আলো থাকে। এমন চাকরি যিনি পাবেন, তাঁর বেতন হবে প্রতি মাসে এক হাজার ১০০ পাউন্ড ( এক হাজার ৭০০ ডলারের কাছাকাছি)। এ ছাড়া চাকরিপ্রার্থীদের সব খরচ মেটাবে ট্রাস্ট। চাকরিপ্রার্থীদের শারীরিকভাবে সুস্থ থাকাটা যে আবশ্যক তা বলাই বাহুল্য।

বিজ্ঞাপন
বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন