বাঙালি তিন কন্যার জয়

বিজ্ঞাপন
default-image

যুক্তরাজ্যের এবারের সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিনজন এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁরা হলেন রুশনারা আলী, টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক ও রূপা আশা হক। লন্ডন থেকে নির্বাচিত তিনজনই বিরোধী লেবার দলের মনোনয়নে নির্বাচন করেন।
রুশনারা বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসনে, টিউলিপ হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসনে ও রূপা ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড অ্যাকটন আসনে বিজয়ী হন। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয় ওই নির্বাচন। গতকাল শুক্রবার ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ১১ জন প্রার্থীর সাতজন লেবার, তিনজন লিবারেল ডেমোক্র্যাটস ও একজন কনজারভেটিভ দলের মনোনয়নে নির্বাচন করেন। আর মদ্যপান অবস্থায় গাড়ি চালানোয় সুমন হক নামের অপর একজন প্রার্থী লেবার দলের মনোনয়ন হারালেও তাঁর প্রার্থিতা বহাল থাকে।
যুক্তরাজ্য জুড়েই বিরোধী লেবার দলের প্রার্থীদের ভরাডুবি হলেও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ওই তিন কন্যা দেখিয়েছেন অনন্য কৃতিত্ব। রুশনারা বিশাল ব্যবধানের জয় পেয়েছেন। টিউলিপ টলায়মান আসনকে দলের পক্ষে মজবুতভাবে ধরে রেখেছেন। আর কনজারভেটিভ প্রার্থীদের জোয়ার সত্ত্বেও রূপা তাঁদের কাছ থেকে আসন ছিনিয়ে এনেছেন।
২০১০ সালের নির্বাচনে প্রথম কোনো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি হিসেবে রুশনারা ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেবার তিনি প্রায় ১২ হাজার ভোটে জয়ী হন। এবার ২৪ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে তাক লাগানো বিজয় লাভ করেন। রুশনারার জয়কে স্বাভাবিকই মনে করা হচ্ছিল।
রুশনারার প্রাপ্ত ভোট ৩২ হাজার ৩৮৭। তাঁর নিকটতম কনজারভেটিভ পার্টির ম্যাথিও স্মিথ পান ৮ হাজার ০৭০ ভোট। অক্সফোর্ড-পড়ুয়া রুশনারার জন্ম সিলেটের বিশ্বনাথে। সাত বছর বয়সে তিনি মা-বাবার সঙ্গে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান।
টিউলিপ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানার মেয়ে। একদিকে পারিবারিক পরিচয়, অন্যদিকে লন্ডনের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে প্রার্থী হওয়ায় তিনি আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন। গত নির্বাচনে লেবার পার্টি মাত্র ৪২ ভোটের ব্যবধানে এ আসনটি জিতেছিল। সামান্য ব্যবধান ঘুচিয়ে আসনটি দখলে নিতে মরিয়া ছিল কনজারভেটিভ পার্টি। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে টিউলিপ লেবার দলের ভোট বাড়িয়েছেন প্রায় ৯ হাজার। কনজারভেটিভ প্রার্থীকে হারিয়েছেন ১ হাজার ১৩৮ ভোটে।
টিউলিপের প্রাপ্ত ভোট ২৩ হাজার ৯৭৭। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সায়মন মার্কাস পেয়েছেন ২২ হাজার ৮৩৯ ভোট। লন্ডনের মিচামে জন্মগ্রহণকারী টিউলিপ কিংস কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১০ সালে স্থানীয় ক্যামডেন কাউন্সিলে প্রথম বাঙালি নারী কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তিনি।
গত নির্বাচনে কনজারভেটিভ দলের কাছে ৩ হাজার ৭১৬ ভোটে হারানো ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড অ্যাকটন আসন লেবারের দখলে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব পড়েছিল রূপা হকের ওপর। ভালোভাবেই সেই দায়িত্ব সম্পন্ন করেছেন রূপা। এবার ২৭৪ ভোটের ব্যবধানে আসনটি জিতে নিয়েছেন।
রূপা ২২ হাজার ২ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ দলের এঞ্জি ব্রে পেয়েছেন ২১ হাজার ৭২৮ ভোট। কিংসটন ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞানের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক রূপা লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশে তাঁর আদিবাড়ি পাবনায়।
লেবার পার্টির বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অন্য প্রার্থীদের মধ্যে বেকেনহাম আসনে ৯ হাজার ৪৮৪ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন মেরিনা আহমদ। ওয়েলউইন অ্যান্ড হ্যাটফিল্ড আসনে ১৩ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন আনোয়ার বাবুল মিয়া। নর্থ-ইস্ট হ্যাম্পশায়ারে ৫ হাজার ২৯০ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন আমরান হোসাইন। রাইগেইট অ্যান্ড বেনস্ট্যাড আসনে আলী আকলাকুল পান ৬ হাজার ৫৭৪ ভোট। আর সুমন হক স্কটল্যান্ডের বেনফ অ্যান্ড বুখান আসনে ২ হাজার ৬৪৭ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অবশিষ্ট প্রার্থীদের মধ্যে লিবারেল ডেমোক্র্যাটস দলের তিন প্রার্থীর মধ্যে নর্থাম্পটন সাউথ আসনে প্রিন্স সাদিক চৌধুরী পেয়েছেন ১ হাজার ৬৭৩ ভোট। ওয়েলসের আর্ফন আসনে মোহাম্মদ সুলতান পান ৭১৮ ভোট। এ ছাড়া আশুক আহমদ লুটন সাউথ আসনে ৩ হাজার ১৮৩ ভোট পেয়ে চতুর্থ হয়েছেন। কনজারভেটিভ দলের একমাত্র প্রার্থী মিনা রহমান লন্ডনের বার্কিং আসনে ৭ হাজার ১৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। ২৫ হাজার ২৮১ ভোট পেয়ে আসনটিতে জিতেছেন লেবার পার্টির প্রার্থী।
রুশনারা আলী
প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হিসেবে ব্রিটিশ এমপি হন ২০১০ সালে। বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসন থেকে এবারও জিতেছেন লেবার পার্টির হয়ে
টিউলিপ সিদ্দিক
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি, শেখ রেহানার মেয়ে। লেবার পার্টি থেকে বিজয়ী হয়েছেন হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসনে
রূপা আশা হক
ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড অ্যাকটন আসনে জিতেছেন লেবার পার্টির এই প্রার্থী। তিনি কিংসটন ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞানের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন