default-image

লুক্সেমবার্গে বসবাসকারী প্রবাসী ব্রিটিশ নাগরিকদের বিক্ষোভের মুখে গতকাল সোমবার একটি সংবাদ সম্মেলন বর্জন করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। লুক্সেমবার্গের প্রধানমন্ত্রী জেভিয়ার ব্যাটেলের সঙ্গে যৌথভাবে ওই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে।

চুক্তিহীন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করতে অনড় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ইইউ কমিশনার জ্যঁ ক্লদে ইউঙ্কারের সঙ্গে আলোচনা করতে গতকাল লুক্সেমবার্গ সফর করেন। তবে আবারও উভয় পক্ষের মধ্য নিষ্ফল আলোচনা হয়েছে। ইইউ কমিশনার জ্যঁ ক্লদে ইউঙ্কার বরিসের কাছ থেকে কোনো নতুন প্রস্তাব না আসার কারণে আবারও হতাশা প্রকাশ করেছেন। নিষ্ফল আলোচনা ছাড়াও লুক্সেমবার্গের প্রধানমন্ত্রী জেভিয়ার ব্যাটেলের সঙ্গে পরিকল্পিত যৌথ সংবাদ সম্মেলন ত্যাগ করে বরিস জনসন সমালোচনার পাত্র হয়েছেন।

আগামী ১৭ ও ১৮ অক্টোবর ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন জোট সদস্যদের শীর্ষ বৈঠকের আগে গতকাল ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও ইইউ কমিশনার জ্যঁ ক্লদে ইউঙ্কারের বৈঠকের বিষয়ে সবাই বেশ আশাবাদী হয়েছিলেন। গতকাল আলোচনাকালে স্যামন মাছ ও পনির দিয়ে সুস্বাদু মধ্যাহ্নভোজ সারলেও ব্রেক্সিটসংক্রান্ত জটিল জটের কোনো সুরাহা হয়নি।

ইইউ কমিশনার জ্যঁ ক্লদে ইউঙ্কার হতাশার সুরে জানিয়েছেন, ‘ইইউ জোট থেকে যুক্তরাজ্যের চলে যাওয়ার বিষয় বা ব্রেক্সিট চুক্তিতে আমরা যথেষ্ট ছাড় দিয়েছি। আমরা বারবার তাগাদা দিয়েও ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে কোনো বিকল্প প্রস্তাব পাচ্ছি না।’ এখন ১৭ ও ১৮ অক্টোবর অবশিষ্ট ২৭ সদস্যবিশিষ্ট ইইউ জোট সরকারপ্রধানেরা ৩১ অক্টোবর চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান ইইউ কমিশনার জ্যঁ ক্লদে ইউঙ্কার। তিনি ব্রেক্সিট বিষয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিসের সঙ্গে সর্বশেষ আলোচনার বিষয়টি বুধবার স্ট্রাসবুর্গ ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যদের অবহিত করবেন।

চুক্তিহীনভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করতে মরিয়া ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের একজন মুখপাত্র গতকাল আবার জানিয়েছে, ইইউ জোটকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ৩১ অক্টোবরে পরে আবারও সময় বৃদ্ধি করার বিষয়ে কোনো আবেদন করবেন না। উভয় নেতার মধ্যে ব্রেক্সিট বিষয়ে নিষ্ফল আলোচনা হলেও ব্রিটিশ মুখপাত্র আলোচনাটিকে গঠনমূলক বলে বর্ণনা করেছেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও ইইউ কমিশনার জ্যঁ ক্লদে ইউঙ্কারের সঙ্গে আলোচনা শেষে রীতি অনুযায়ী লুক্সেমবার্গের প্রধানমন্ত্রী জেভিয়ার ব্যাটেলের সঙ্গে পরিকল্পিত যৌথ সংবাদ সম্মেলন পরিত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। লুক্সেমবার্গে বসবাসকারী প্রবাসী ব্রিটিশ নাগরিকদের বিক্ষোভের কারণেই তিনি সংবাদ সম্মেলন বর্জন করেন। প্রবাসী ব্রিটিশ নাগরিকেরা ব্রেক্সিটের কারণে বরিসবিরোধী স্লোগান দেন এবং পোস্টার বহন করেন। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত না হওয়ার বিষয়টিকে লুক্সেমবার্গের প্রধানমন্ত্রী জেভিয়ার ব্যাটেল অকূটনৈতিকসুলভ ও দুঃস্বপ্নের মতো ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন