default-image

কোনো ভুল পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে ভারতকে সতর্ক করে দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি বলেছেন, এমন কোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে প্রস্তুত পাকিস্তান। জাতিসংঘের হীরকজয়ন্তীতে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে শুক্রবার দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন ইমরান। কাশ্মীর, বাবরি মসজিদ প্রসঙ্গ, মুসলমানদের বিরুদ্ধে দমন-নিপীড়নের অভিযোগসহ ভারতের নানা বিষয়ে জ্বালাময়ী বক্তৃতা দেন তিনি। জবাবে ভারত বলেছে, ইমরান খান ‘নিরবচ্ছিন্ন গলাবাজি’ করেছেন। তাঁর দেশ গত সাত দশকে বিশ্বকে সন্ত্রাসবাদের মতো কিছু বিষয় ছাড়া কিছুই উপহার দিতে পারেনি।
জিয়ো টিভির খবরে বলা হয়, ভিডিও লিংকের মাধ্যমে বক্তব্য দেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘নাৎসি বাহিনীর ঘৃণা ছিল ইহুদিদের প্রতি। আর আরএসএসের (কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ) ঘৃণা মুসলিমদের প্রতি; সীমিতভাবে খ্রিষ্টানদের প্রতিও।’ ইমরান খান বলেন, গান্ধী ও নেহরুর ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শ বাদ দিয়ে হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছে আরএসএস। এটা বাস্তবায়নে তারা ভারতের ২০ কোটি মুসলমানের পাশাপাশি অন্য সংখ্যালঘুদের ওপরও নিপীড়ন চালাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরএসএস কর্মীদের হাতে বাবরি মসজিদ ধ্বংস ও ওই সময়ের দাঙ্গায় ২ হাজার মুসলমানের প্রাণহানি হয়েছে উল্লেখ করে ইমরান খান বলেন, ‘(গুজরাটের) ওই হত্যাযজ্ঞ চলেছিল তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মোদির (বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি) তত্ত্বাবধানে।’ গত ফেব্রুয়ারিতে নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের বিরুদ্ধে দিল্লিতে বিক্ষোভকারী মুসলমানদের ওপর পুলিশের যোগসাজশে দমন-নিপীড়ন চলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, হিন্দুত্ববাদী আদর্শের লোকজনের কাছে মুসলমান, খ্রিষ্টান ও শিখ সম্প্রদায়ের ৩০ কোটি মানুষের কেউ রেহাই পাচ্ছে না।

গত বছরের ৫ আগস্ট ভারতশাসিত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করা হয়। তখন কাশ্মীরে ইন্টারনেট বন্ধসহ নানা কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিল ভারত। এসব উল্লেখ করে ইমরান খান বলেন, কাশ্মীরের জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে ভারত। হাজার হাজার কাশ্মীরিকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভেও গুলি চালিয়েছে তারা।

বিজ্ঞাপন

কাশ্মীরের জনসংখ্যাগত অবস্থায় পরিবর্তন ঘটিয়ে কাশ্মীরি পরিচয় মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে, অভিযোগ করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের এই পদক্ষেপ জাতিসংঘ সনদ, নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব এবং আন্তর্জাতিক অন্যান্য আইনের, বিশেষ করে চতুর্থ জেনেভা সনদের লঙ্ঘন। এসবের বিরুদ্ধে কাশ্মীরিদের অব্যাহত লড়াইয়ের প্রশংসা করে ইমরান বলেন, এই লড়াইয়ে কাশ্মীরি ভাইবোনদের পাশে দাঁড়াতে পাকিস্তান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিশ্বের মনোযোগ অন্যদিকে ঘোরাতে ভারত সামরিক বিভিন্ন তৎপরতা জোরদার করেছে, উল্লেখ করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের ‘বিপজ্জনক খেলা’ বন্ধ করতে দেশটিকে সতর্ক করে দেন। তিনি ইসলামবিদ্বেষ রুখতে একটা আন্তর্জাতিক দিবস চালু করতে বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন
default-image

ইমরানের ‘গলাবাজির’ কড়া জবাব ভারতের
‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এর খবরে বলা হয়, জাতিসংঘে ইমরান খানের ‘নিরবচ্ছিন্ন গলাবাজি’ ও ‘বিদ্বেষপূর্ণ’ বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে ভারত। দেশটি বলেছে, পাকিস্তান তার ৭০ বছরের ইতিহাসে বিশ্বকে ‘গৌরবের মুকুট’ হিসেবে দেখাতে পেরেছে কেবলই সন্ত্রাসবাদ, জাতিগত নিধন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার মৌলবাদ ও পারমাণবিক অস্ত্রের চোরাচালান।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভাষণের জবাবে শুক্রবার জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি মিজিতো ভিনিতো এসব কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কের জন্য নির্ধারিত হলে বসে বক্তব্য দেন তিনি। এর আগে ইমরান খান যখন ভারতকে তীব্রভাবে আক্রমণ করছিলেন, তখন আসন থেকে উঠে চলে যান ভিনিতো।

মন্তব্য পড়ুন 0