নির্বাচন সামনে রেখে দলের নীতি নিয়ে এখন একে অপরকে তুলাধোনা করতে ব্যস্ত ব্রিটিশ রাজনীতিকেরা। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও একটি বিষয়ে সমস্বরে ঘোষণা দিলেন—নির্বাচনে জিতে যে দলই সরকার গঠন করুক, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সবাই একসঙ্গে কাজ করবেন। দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী মে মাসে।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও কনজারভেটিভ পার্টির নেতা ডেভিড ক্যামেরন, লিবারেল ডেমোক্রেট (লিবডেম) পার্টির নেতা উপপ্রধানমন্ত্রী নিক ক্লেগ এবং বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা এড মিলিব্যান্ড গত শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে ওই ঘোষণা দেন। বিবৃতিতে তাঁরা একমত হয়ে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন হলো বিশ্বের জন্য অন্যতম মারাত্মক হুমকি।
নেতাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে রয়েছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখতে জাতিসংঘের আসন্ন প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে একটি বৈশ্বিক জলবায়ু চুক্তি স্বাক্ষরে কাজ করা, জলবায়ু পরিবর্তন আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কার্বন বাজেট ঠিক করা এবং প্রচলিত উচ্চ দূষণসম্পন্ন কয়লা জ্বালানির ইতি ঘটানো।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, হালে আলোচনায় আসা প্রচণ্ড জাতীয়তাবাদী ব্রিটিশ রাজনৈতিক দল ইউকে ইনডিপেনডেন্ট পার্টির (ইউকিপ) হুমকি মোকাবিলায় কনজারভেটিভ পার্টি জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত অবস্থান থেকে সরে আসবে বলে ইউরোপীয় অংশীদারেরা যে আশঙ্কা করছিল, এই বিবৃতি সেই আশঙ্কা দূর করেছে। একই সঙ্গে যাঁরা সবুজ জ্বালানিতে (গ্রিন এনার্জি) বিনিয়োগে আগ্রহী, তাঁরাও এতে আশ্বস্ত হয়েছেন। প্রসঙ্গত, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের বরাদ্দকে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হিসেবে দেখে থাকে ইউকিপ।
গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যভিত্তিক এইচএসবিসি (হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন) ব্যাংকের গ্রাহকদের কর ফাঁকির ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর তা যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়ায়। কেননা যে মেয়াদে (২০০৫-০৭) কর ফাঁকির ঘটনা ঘটেছে, তখন ব্যাংকটির প্রধান নির্বাহী ও চেয়ারম্যান ছিলেন বর্তমান ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের নেতা লর্ড স্টিফেন িগ্রন। ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি দলটির মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে কর ফাঁকিতে এমন সব ব্যক্তির নাম রয়েছে, যাঁরা কনজারভেটিভ পার্টির বড় অঙ্কের তহবিল জোগানদাতা।
বিরোধীদলীয় নেতা এড মিলিব্যান্ড বলেছেন, কর ফাঁকিবাজদের অর্থে চলা ডেভিড ক্যামেরন একজন ধোঁকাবাজ প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন পাল্টা আক্রমণ করে বলেছেন, বিগত লেবার সরকারের আমলেই ওই কর ফাঁকির ঘটনা ঘটছে। ফলে এর দায়ভার নিতে হবে তাদেরই।

বিজ্ঞাপন
বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন