default-image

করোনার সংক্রমণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে শঙ্কা বাড়ছে। টানা চার সপ্তাহ ধরে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। এর মধ্যে গত সাত দিনে বিশ্বে নতুন করে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ৩৩ লাখ মানুষের শরীরে। এই সময় করোনায় মারা গেছেন ৬০ হাজারের বেশি। গতকাল বুধবার মহামারিবিষয়ক সাপ্তাহিক হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সেই তথ্যের বরাতে ইউএন নিউজের প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়েছে।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, টানা চার সপ্তাহ ধরে বিশ্বজুড়ে সংক্রমণ বাড়তির দিকে রয়েছে। তবে সংক্রমণ বাড়লেও ছয় সপ্তাহ ধরে করোনায় মৃত্যুর মিছিল কমতির দিকে ছিল। তবে শেষ সাত দিনে তা কিছুটা স্থির।

এই সময় ইউরোপ এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় করোনা পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক হয়ে উঠেছে। প্রতি ১০ জন নতুন শনাক্ত ও মৃত্যুর ৮ জনই এসব অঞ্চলের। তবে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এই সাত দিনে প্রাণহানি আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে এসেছে।

করোনা ভোগাচ্ছে সব অঞ্চলকেই
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, ইউরোপ, ভূমধ্যসাগরের পূর্বাংশ- সব অঞ্চলে করোনা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে। বাড়ছে সংক্রমণ। হালনাগাদ তথ্যে এ কথা বলছে ডব্লিউএইচও।

তবে আফ্রিকা এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় এই সাত দিনে নতুন করে সংক্রমণ তুলনামূলক স্থির ছিল। যদিও ব্রাজিলসহ এসব অঞ্চলের কয়েকটি দেশের পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, বুধবারের আগের ৭ দিনে ব্রাজিলে ৫ লাখ ৮ হাজারের বেশি মানুষের নতুন করে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ৩ শতাংশ বেশি। যদিও দেশটিতে সর্বমোট মৃতের সংখ্যা ৩ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

এই সময় যুক্তরাষ্ট্রে নতুন সংক্রমণ আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৯ শতাংশ কমে ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৩৬৯ জনে নেমে এসেছে। এদিকে ভারতে হু হু করে বাড়ছে সংক্রমণ। বুধবারের আগের ৭ দিনে দেশটিতে নতুন সংক্রমণ আগের সপ্তাহের তুলনায় ৬২ শতাংশ বেড়ে ২ লাখ ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। এর মধ্যে গতকাল বুধবার দেশটিতে গত পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। ফ্রান্সেও সংক্রমণ বেড়েছ ২৭ শতাংশ। ৭ দিনে দেশটিতে নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ৪ হাজার ৮৪০। ইতালিতে এই সময় ১ লাখ ৫৪ হাজারের বেশি কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে।

default-image

উদ্বেগ বাড়াচ্ছে করোনার ধরন
বিশ্বের ৬টি অঞ্চলের ১২৫টি দেশে যুক্তরাজ্যে ছড়িয়ে পরা করোনার বিশেষ ধরনের (স্ট্রেইন) উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। করোনার ধরনটিতে সংক্রমিত লোকজনের হাসপাতালে ভর্তির হার বেশি। এটি অধিক মাত্রায় প্রাণঘাতী। গত অক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ৫৫ হাজার কোভিড-১৯ রোগীর ওপর গবেষণা চালিয়ে সংস্থাটি বলছে, এই স্ট্রেইন ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতি এক হাজার জন করোনায় সংক্রমিত ব্যক্তির মধ্যে মারা গেছেন ৪ জন। আগের স্ট্রেইনগুলোয় মৃত্যুহার ছিল হাজারে ২ দশমিক ৫ জন।

এদিকে বিশ্বের ৭৫টি দেশে দক্ষিণ আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়া করোনার বিশেষ ধরনের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। এই ধরনটি মৃত্যুর সংখ্যা ২০ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে।

শঙ্কা ছড়াচ্ছে তৃতীয় আরেকটি ধরন
চলতি বছরের শুরুর দিকে ব্রাজিলে মানাউস শহর করোনা মহামারির কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়। ওই সময় বিশেষজ্ঞরা জানান, ওই এলাকায় করোনার স্থানীয় একটি ধরন ছড়িয়ে পড়েছে। এটি আগের ভাইরাসের তুলনায় আড়াইগুণ দ্রুত ছড়াতে সক্ষম। তিন মাসের কম সময়ের ব্যবধানে এটি রীতিমতো বিপর্যয়ের মুখে ফেলেছে ব্রাজিলকে।

করোনার নতুন এই ধরনের অপ্রতিরোধ্য বিস্তারে ব্রাজিলে সংক্রমণ ও মৃত্যুর রেকর্ড হচ্ছে। এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে ৪১টি দেশে ব্রাজিলের ধরনটি শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। বুধবারের আগের সাত দিনে অন্তত তিনটি দেশ করোনার ধরনটির সংক্রমণ ছড়ানোর কথা জানিয়েছে।

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে হালনাগাদ করছে ওয়ার্ল্ডোমিটারস। আজ বৃহস্পতিবার রাত আটটা পর্যন্ত ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্য বলছে, এ পর্যন্ত বিশ্বে ১২ কোটি ৫৫ লাখ ৯১ হাজার ৪২৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছে ২৭ লাখ ৫৯ হাজার ৩২৩ জন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১০ কোটি ১৩ লাখ ৯২ হাজার ৪৪২ জন।

বিজ্ঞাপন
বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন