নতুন গবেষণায় তথ্য

বিশ্বে বাস্তুচ্যুত হবে শতকোটি মানুষ

২০৫০ সাল নাগাদ খাবারের চাহিদা বাড়বে ৫০ শতাংশ। বিশুদ্ধ পানির উৎস সংকুচিত হবে। বাড়বে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা।

২০৫০ সাল নাগাদ ১০০ কোটির বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে
২০৫০ সাল নাগাদ ১০০ কোটির বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারেছবি: রয়টার্স
বিজ্ঞাপন

যুদ্ধের কারণে সাধারণ মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। তবে যে হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এর বিপরীতে খাবার ও পানির উৎস যেভাবে কমে যাচ্ছে এবং একই সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি যেভাবে বাড়ছে, তাতে করে ২০৫০ সাল নাগাদ ১০০ কোটির বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে। বৈশ্বিক পরিবেশগত হুমকির বিষয়গুলো বিশ্লেষণে এই চিত্র উঠে এসেছে।

■ আগামী কয়েক দশকের মধ্যেই চীন ও ভারতের মতো দেশগুলো চরম খাওয়ার পানির সংকটে পড়বে।

■ বিশ্বব্যাপী সহিংসতা ও সম্পদের উৎস নিয়ে সংঘর্ষ বেড়ে যাবে। বাড়বে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিভিত্তিক নীতিনির্ধারণী আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস (আইইপি) এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি মূলত সন্ত্রাসবাদ ও শান্তি নিয়ে সূচক প্রকাশ করে থাকে। নতুন এই প্রতিবেদন তৈরির জন্য জাতিসংঘের ইকোলজিক্যাল থ্রেট রেজিস্ট্রারসহ বিভিন্ন সূত্রের তথ্য ব্যবহার করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পরিবেশগত আটটি হুমকি নিয়ে কাজ করেছে আইইপি। তাদের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে কোন কোন দেশ এবং অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নতুন এই গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা এক হাজার কোটিতে পৌঁছাবে। ফলে বিশ্বব্যাপী সহিংসতা বেড়ে যাবে। একই সঙ্গে বাড়বে সম্পদের উৎস নিয়ে সংঘর্ষও। বর্তমানে ১২০ কোটি মানুষ বসবাস করে সাব-সাহারান আফ্রিকা, মধ্য এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে। এই মানুষগুলোর অবস্থা তুলনামূলক অরক্ষিত। ২০৫০ সাল নাগাদ এই মানুষগুলো তাদের নিজ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হতে পারে। এই প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৯ সালে পরিবেশ ও সহিংসতার কারণে বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় তিন কোটি মানুষ।

এ প্রসঙ্গে আইইপির প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ কিলিলিয়া বলেন, এর একটি ব্যাপক সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব থাকবে। এই প্রভাব যে শুধু উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর পড়বে, এমনটা নয়। উন্নত দেশগুলোর ওপরও এর প্রভাব পড়বে। কারণ, এই বাস্তুচ্যুত হওয়ার কারণে শরণার্থীদের একটি বড় অংশ উন্নত দেশগুলোয় যাওয়ার চেষ্টা করবে।

পরিবেশগত এই হুমকিগুলোকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। খাদ্যনিরাপত্তা, খাওয়ার পানির স্বল্পতা, জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে একটি ভাগে রাখা হয়েছে। আরেকটি ভাগে রয়েছে বন্যা, সাইক্লোন, খরা ও সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোকে। প্রায় দেড় শ দেশের ওপর এই জরিপ চালানো হয়েছে। এতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে, কোন দেশের ওপর এই হুমকিগুলো কতটা।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আইইপির গবেষণা অনুসারে, আগামী কয়েক দশকের মধ্যে চীন ও ভারতের মতো দেশগুলো চরম খাওয়ার পানির সংকটে পড়বে। এ ছাড়া পাকিস্তান, ইরান, মোজাম্বিক, কেনিয়া ও মাদাগাস্কারের মতো দেশগুলো হুমকির মুখে পড়বে। এ ছাড়া সংকটগুলো মোকাবিলার ক্ষমতাও কমে যাবে দেশগুলোর। ৯০ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দেশগুলো বর্তমানে স্থিতিশীল থাকলেও পরিবেশগত হুমকিতে রয়েছে। এই হুমকি মোকাবিলার ইতিবাচক দিকগুলো দিন দিন কমে আসছে। অর্থাৎ দেশগুলো বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্টিভ কিলিলিয়া বলেন, ৫০ বছর আগে যে পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি ছিল, তা কমে ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ৩০ বছরে খাদ্যের চাহিদা বর্তমানের তুলনায় ৫০ শতাংশ বাড়বে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন