default-image

যুক্তরাজ্যে লন্ডনের কেন্দ্রে লাখ লাখ মানুষ মিছিল নিয়ে জড়ো হয়েছেন। ব্রেক্সিট ইস্যুতে তাঁরা গণভোট চান। ব্রেক্সিট সংকট সমাধানের পথ খুঁজছেন পার্লামেন্ট সদস্যরা।

‘পুট ইট টু দ্য পিপল’ ক্যাম্পেইনের আয়োজকেরা বলছেন, পার্লামেন্টের সামনে সমাবেশ শুরুর আগে ১০ লাখের বেশি মানুষ মিছিলে যোগ দেন। বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড ও পতাকা। তাঁদের দাবি, যেকোনো ব্রেক্সিট চুক্তির জন্য গণভোট করতে হবে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রায় আট ঘণ্টা বৈঠক করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা। ব্রেক্সিট সম্পন্ন করার জন্য দুই সপ্তাহ সময় বাড়িয়ে দিয়েছে ইইউ। ফলে, ব্রেক্সিটের জন্য নতুন সময় নির্ধারিত হয়েছে আগামী ১২ এপ্রিল। ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে তৃতীয় দফা ভোট হবে না বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। এরপর পদত্যাগ করার জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হয়।

বিক্ষোভ মিছিলে বক্তব্য দেন লেবার পার্টির উপনেতা টম ওয়াটসন, স্কটল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নিকোলা স্টার্জন, লন্ডনের মেয়র সাদিক খান ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ডমিনিক গ্রিভ।

২০০৩ সালের যুদ্ধবিরোধী মিছিলকে শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মিছিল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ব্রেক্সিট ইস্যুতে বের করা এই মিছিল সে রেকর্ড ভাঙতে পারে।

ঘটনাস্থল থেকে বিবিসির প্রতিনিধি রিচার্ড লিস্টার জানান, মিছিল শুরু হওয়ার পাঁচ ঘণ্টা পরেও পার্লামেন্ট স্কয়ারে আসছেন প্রতিবাদকারীরা। ঠাসাঠাসি করে রাস্তায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করছেন তাঁরা। আয়োজকদের বরাতে রিচার্ড লিস্টার জানান, ১০ লাখেরও বেশি বিক্ষোভকারী মিছিলে অংশ নিয়েছেন।

থেরেসা মের চুক্তিকে ‘যাচ্ছেতাই’ বলেছেন টম ওয়াটসন। সমবেত জনতার উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। জনগণের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বেলা একটায় মিছিল বের হওয়ার কথা ছিল। পার্ক লেনের রাস্তাগুলো বেশ কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। দেশের আনাচকানাচ থেকে মানুষ এসে জড়ো হন। মিছিলে ছিল ইইউয়ের লোগোর নীল আর হলুদ রং। মিছিলে ছিলেন সাধারণ মানুষ। ছিল রাজনৈতিক দলগুলোও। ঘর থেকে প্ল্যাকার্ড লিখে আনেন তাঁরা। ব্রেক্সিট বিষয়ে সচেতন হতে বলেন। ব্রেক্সিটকে বিশ্বাসঘাতক বলেন।

ইইউ থেকে বের না হওয়ার দাবিতে ঝাঁজালো সব স্লোগানে তেতে ওঠে রাজপথ। এই মিছিলকে একধরনের উৎসব বলে মনে করেছেন কয়েকজন। মিছিলে ছিল বাজনা–গান। তারকাদের মধ্যে ছিলেন ‘গেম অব থ্রোনস’ তারকা লিনা হিডি, উপস্থাপক ক্লডিয়া উইংকেলম্যান এবং নিল ট্যানেন্ট। অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা বলেন, ‘আমরা কী চাই?’ উত্তর আসে ‘ভোট’। আবার বলা হয়, ‘কখন ভোট চাই?’ উত্তর আসে ‘এখন’।

মিছিলে মেয়র সাদিক খান জনগণের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়ার দাবিতে ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন।

তবে পার্লামেন্টে রক্ষণশীল দলের সদস্য জন রেডউড বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা জানি, ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ ইইউয়ে থাকার পক্ষে ছিল। অনেকেই এখনো আগের সিদ্ধান্তে অটল। কেউ কেউ গণভোটের কথা বলছেন। সংখ্যায় তাঁরা কম। এই ভোট যতবারই নেওয়া হোক না কেন, কোনো সিদ্ধান্তে আসা যাবে না।

সংবিধানের ৫০ নম্বর অনুচ্ছেদ বাদ দিয়ে ব্রেক্সিট চুক্তি বাতিলের দাবিতে রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে পার্লামেন্টের ওয়েবসাইটে। এই দাবির পক্ষে ৪০ লাখ মানুষ সই করেছেন। উদ্যোক্তা মার্গারেট বলেছেন, তাঁকে ফোনে তিনবার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

লিবারেল ডেমোক্র্যাট এমপি লায়লা মোরান বলেন, ব্রেক্সিট গণভোটে অক্সিজেন হিসেবে কাজ করবে এই অনলাইন আবেদন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0