default-image

পার্লামেন্টের কাছে ধারশায়ী হলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। ব্রেক্সিট বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আইনপ্রণেতারা সংসদীয় কার্যবিধির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছেন। এর ফলে কার্যত ব্রেক্সিট প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ সংসদের হাতে চলে গেল।

যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সরকারের কাছ থেকে নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। গত সোমবার ব্রেক্সিট বিষয়ে বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে সংসদের মতামত যাচাইয়ের প্রস্তাবে ভোটাভুটি হয়। ৩২৯ জন আইনপ্রণেতা এর পক্ষে ভোট দেন। আর বিপক্ষে ছিলেন ৩০২ জন। সরকারের ক্ষমতা খর্ব করার সর্বদলীয় ওই প্রস্তাবের উদ্যোক্তা ক্ষমতাসীন দলেরই লোক-আইনপ্রণেতা অলিভার লেটউইন।

দলীয় নির্দেশ অমান্য করে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের ৩০ জন আইনপ্রণেতা সরকারের বিপক্ষে ভোট দেন। এদের মধ্যে তিনজন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন—রিচার্ড হ্যারিংটন, স্টিভ ব্রাইন ও অ্যালিস্টার বার্ট। সরকারের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার কারণে রীতি অনুযায়ী তাঁরা মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। রিচার্ড হ্যারিংটন তাঁর পদত্যাগপত্রে অভিযোগ করেন, ব্রেক্সিট প্রশ্নে জনগণের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকার জুয়া খেলছে।

গত আড়াই বছরে থেরেসা মের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগীর সংখ্যা ৩৯ জন জনে গিয়ে দাঁড়াল। অতীতে এত দ্রুততম সময়ে মন্ত্রিসভা থেকে এত বেশি পদত্যাগের ঘটনা আর ঘটেনি।

এদিন অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়ার এই প্রচেষ্টার বিষয়ে সংসদকে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, এ প্রচেষ্টা সফল হলে তা ক্ষমতার ভারসাম্যের রীতিতে ক্ষতিকর নজির তৈরি করবে। তিনি আরও বলেন, ব্রেক্সিট নিয়ে সংসদ এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে যেটি হয়তো সরকারের ইশতেহারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অথবা ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তাতে রাজি হবে না। সংসদের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত সরকার মানতে বাধ্য নয় বলে জানিয়ে দেন মে। সংসদের মতামত যাচাইয়ে সরকারের পক্ষ থেকেই ভোটাভুটি আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

কিন্তু সর্বদলীয় ওই প্রস্তাবের সমর্থকেরা বলেন, তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিতে আস্থা রাখতে পারছেন না। কারণ গত আড়াই বছরেও ব্রেক্সিটের সম্ভাব্য বিকল্পগুলো নিয়ে আইনপ্রণেতাদের মতামত দেওয়ার সুযোগ দেননি প্রধানমন্ত্রী।

সংসদের কার্যবিধির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ফলে আজ আইনপ্রণেতারা ব্রেক্সিট বিষয়ে বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তাবের ওপর মতামত দেওয়ার সুযোগ পাবেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতা কোন প্রস্তাবটি সমর্থন করেন, সেটি যাচাই করাই লক্ষ্য।

ক্ষমতাসীন দলের নিক বলস বলেন, সংসদের নেওয়া সিদ্ধান্ত সরকার মানতে না চাইলে আরেকটি প্রস্তাব পাসের মাধ্যমে সরকারকে বাধ্য করা হবে।

লেবার নেতা জেরেমি করবিন বলেন, সরকারের উচিত হবে সংসদের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া। সর্বদলীয় আইনপ্রণেতারা ব্রেক্সিট অচলাবস্থার সমাধানে সফল হবেন বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

বিবিসির রাজনীতি বিষয়ক সম্পাদক লরা কুয়েন্সবার্গ বলেন, সংসদের হাতে নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে ব্রেক্সিটের গতিপথ নমনীয়তার দিকে ঝুঁকে গেল। কেননা সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতা ইইউর সঙ্গে বিচ্ছেদের বিপক্ষে এবং তাঁরা ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখেই বিচ্ছেদ চাইবেন।

অন্যদিকে কট্টর ব্রেক্সিটপন্থী আইনপ্রণেতারা এখন হয়তো প্রধানমন্ত্রীর চুক্তির সমর্থনে এগিয়ে আসবেন। কারণ ব্রেক্সিটের সুযোগ হাতছাড়া হোক, সেটি তাঁরা চাইবেন না। তবে রাজনৈতিকভাবে কঠিন হলেও আইনিভাবে চুক্তি ছাড়া বিচ্ছেদ সম্ভব। কট্টরপন্থীরা সে কারণেই গোঁ ধরে আছেন।

২৯ মার্চ ইইউর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। সেটি পিছিয়ে এখন ১২ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়েছে। ইইউ গত সোমবার বলেছে, চুক্তিবিহীন বিচ্ছেদের জন্য তাদের প্রস্তুতি চূড়ান্ত। যুক্তরাজ্য চুক্তি ছাড়াই ছিটকে পড়বে, এমন আশঙ্কা জোরালো হয়েছে বলে তাদের ধারণা।

বিজ্ঞাপন
বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন