বিজ্ঞাপন

এ বছর ২০০ কোটি টিকা সংগ্রহ করে বিতরণের লক্ষ্য ছিল কোভ্যাক্সের। এর অর্ধেক টিকা পাওয়ার কথা ছিল সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে। কিন্তু গত মার্চ, এপ্রিল ও চলতি মে মাসে টিকার কোনো চালান তারা পাঠায়নি। জুনের শেষ নাগাদ কোভ্যাক্সে প্রতিশ্রুত টিকার ঘাটতি গিয়ে দাঁড়াতে পারে ১৯ কোটিতে।

জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) টিকা কিনে কোভ্যাক্সে দিচ্ছে। কোভ্যাক্সে টিকা সরবরাহে ইউনিসেফের সমন্বয়কারী গিয়ান গান্ধী বিবিসিকে বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, আমরা এমন একটা অবস্থায় আছি যে টিকার পরবর্তী চালান কখন আসবে, তা আমরা জানি না। আমাদের আশা, সবকিছু আবার স্বাভাবিক হবে। কিন্তু ভারতের পরিস্থিতি অনিশ্চিত... এবং এটি খুবই উদ্বেগের বিষয়।’

এই পরিস্থিতিতে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর প্রতি কোভ্যাক্সে টিকা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইউনিসেফ। সংস্থাটি বলছে, তাদের হাতে যে তথ্য আছে, তাতে এই জোটভুক্ত দেশগুলো নিজেদের জনগণকে টিকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণ করে উদ্বৃত্ত থেকে ১৫ কোটি ৩০ লাখ টিকা দান করতে পারবে।

আগামী জুনে যুক্তরাজ্যে জি-৭–এর সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। এই জোটে রয়েছে কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র।

জি-৭ সদস্যভুক্ত দেশগুলোর পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি তাদের কাছে থাকা বাড়তি টিকাগুলো জরুরি ভিত্তিতে কোভ্যাক্সে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইউনিসেফ। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ বেশ কিছু দেশ তাদের জনসংখ্যার জন্য প্রয়োজনীয় টিকার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টিকার বন্দোবস্ত করেছে।

কানাডা ৩৩ কোটি ৮০ লাখ ডোজ টিকা অর্ডার করেছে, যা দেশটির সব মানুষকে পাঁচবার টিকা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। যুক্তরাজ্য ৪৫ কোটি ৭০ লাখ টিকার বন্দোবস্ত করেছে, যা দিয়ে দেশটির সব নাগরিককে তিনবারের বেশি টিকা দেওয়া যাবে। ১৮০ কোটি ডোজ কিনে রেখেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যা দিয়ে জোটভুক্ত দেশগুলোর জনগণকে দুইবারের বেশি টিকা দেওয়া যাবে। অস্ট্রেলিয়া কিনে রেখেছে ১২ কোটি ৪০ লাখ ডোজ টিকা, যা দিয়ে দেশের নাগরিকদের আড়াইবার টিকা দেওয়া যাবে। ১২০ কোটি ডোজ টিকার ব্যবস্থা করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা দিয়ে দেশটির জনগণকে দুইবার টিকা দেওয়া যাবে।

গত ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন তাদের কাছে থাকা অতিরিক্ত টিকা দরিদ্র দেশগুলোর জন্য দান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে তিনি কোনো সময়সীমার কথা নির্দিষ্ট করে বলেননি। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও ঘটনা একই। জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে শুধু ফ্রান্সই ভারতে করোনা সংকটের মুখে বাড়তি টিকাদান করছে।
বিবিসি অবলম্বনে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন গালিব মুজাহিদ

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন