বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সাবেক প্রতিরক্ষাপ্রধানদের মধ্যে রয়েছেন চার সাবেক নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল লক্ষ্মীনারায়ণ রামদাস, অ্যাডমিরাল বিষ্ণু ভগত, অ্যাডমিরাল অরুণ প্রকাশ, অ্যাডমিরাল আর কে ধবন ও বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এস পি ত্যাগী। এই চিঠির কপি তাঁরা পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি, সংসদের উভয় কক্ষের অধ্যক্ষ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, তিন বাহিনীর বর্তমান প্রধান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও সব সংসদীয় দলের নেতাকে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে কিছুদিন ধরে হিন্দু ধর্ম সংসদের আয়োজন করা হচ্ছে। দিল্লি, হরিদ্বার ও ছত্তিশগড়ের রায়পুরে এমন ধরনের ধর্ম সংসদ থেকে সরাসরি মুসলমান নিধনের ডাক দেওয়া হয়েছে। জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী নাথুরাম গডসের প্রশংসা করা হয়েছে। ভারতকে হিন্দুরাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সে জন্য সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীকে সক্রিয় হতে বলা হয়েছে। হিন্দুত্বের রক্ষায় মুসলমানদের মারতে বলা হয়েছে। গণহত্যায় শামিল হওয়ার ডাক দেওয়া হয়েছে। এতে বিচলিত হয়ে সাবেক পাঁচ প্রতিরক্ষাপ্রধানের সঙ্গে শতাধিক সেনানী, আমলা, সাংবাদিকসহ সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষ রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সক্রিয় ব্যবস্থা গ্রহণের আরজি জানিয়েছেন।

তাঁরা বলেছেন, দেশ এমনিতেই সংকটের মধ্য দিয়ে চলছে। অভ্যন্তরীণ সমস্যা ছাড়াও সীমান্ত পরিস্থিতি ভালো নয়। এ পরিস্থিতিতে হিন্দুত্ব রক্ষার নামে মুসলমান গণহত্যার আহ্বান দেশকে ভেতর থেকে নড়বড়ে তো করবেই, বহিঃশত্রুকেও উৎসাহিত করবে। দেশের একতা ও সার্বভৌমত্বের ক্ষেত্রে তা উদ্বেগজনক। তাঁরা বলেন, মুসলমান ছাড়াও খ্রিষ্টান, শিখ ও দলিতদেরও আক্রমণের লক্ষ্য করা হয়েছে।

দিল্লি, হরিদ্বার ও রায়পুরের ধর্ম সংসদকে কেন্দ্র করে সারা দেশে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল সমালোচনা করেছে। কদিন আগে সুপ্রিম কোর্টের ৭৬ জন আইনজীবী দেশের প্রধান বিচারপতিকে স্বপ্রণোদিতভাবে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আরজি জানান। দেশের প্রধান বিচারপতি এন ভি রামন যদিও এখনো কোনো নির্দেশ দেননি। সর্বস্তরের এ প্রতিবাদ সত্ত্বেও সরকার ও শাসক দল বিজেপি এখনো কোনো বিবৃতি দেয়নি। বিজেপিশাসিত রাজ্যের পুলিশও ‘হেট স্পিচ’ দেওয়ার অভিযোগে কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। ব্যতিক্রম শুধু কংগ্রেসশাসিত ছত্তিশগড়।

ওই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেলের নির্দেশে রাজ্য পুলিশ মধ্যপ্রদেশ থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যিনি রায়পুরের ধর্ম সংসদে গান্ধীজির হত্যাকারীকে সমর্থন করে ঘৃণা ভাষণ দিয়েছিলেন। সাবেক পাঁচ প্রতিরক্ষাপ্রধান তাই রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে উদ্যোগী হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে চিঠিতে লিখেছেন, গণহত্যার ডাক যারাই দিয়ে থাকুক, সরকার ও বিচার বিভাগকে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এমন অবস্থা চলতে দেওয়া যায় না। অশান্ত সীমান্ত পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তাঁরা লিখেছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি নষ্ট হলে এবং বাহিনীর ঠাসবুনটে চিড় ধরলে শত্রুরা উৎসাহিত হবে।

দেশের একতা ও সংহতি রক্ষার স্বার্থে সরকার, সংসদ ও বিচার বিভাগকে সময় নষ্ট না করে ব্যবস্থা নিতে হবে। ধর্মের নামে এ ভাগাভাগি অসমর্থনীয়ই শুধু নয়, নিন্দনীয়ও। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তাঁদের অনুরোধ, চুপ না থেকে এখনই এমন কিছু করুন, যাতে এ প্রবণতা চিরতরে নষ্ট হয়।
বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচনের স্বার্থে সরকার এমন ‘হেট স্পিচ’ উৎসাহিত করছে। উত্তর প্রদেশের বিধানসভা ভোটের আগে শাসক বিজেপি ধর্মীয় মেরুকরণ সৃষ্টিতে আগ্রহী। সে জন্য এমন ধরনের আরও ধর্ম সংসদের আয়োজন করা হচ্ছে।

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন