বেঙ্গালুরুর পুলিশ কমিশনার কমল পন্থ গত বৃহস্পতিবার এক টুইটে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করার কথা জানান। টুইটে তিনি বলেন, মাত্র পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে ওই ঘটনার তদন্ত শেষ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রথম অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দাখিল করা হয়েছে ১০১৯ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র।

তদন্ত দ্রুত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করায় মামলাটির তদন্তকারী দলের প্রশংসা করেছেন পুলিশ কমিশনার। তিনি তদন্তকারী দলের জন্য ১ লাখ রুপি পুরস্কার অনুমোদন করার কথাও জানান।

পুলিশ বলেছে, সবুজ শেখ ও রফিক ওরফে রাফসান প্রধান দুই অভিযুক্ত ব্যক্তি। অভিযোগপত্রভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন তাঁদের সহযোগী হৃদয় বাবু, রাকিবুল ইসলাম ওরফে সাগর, বাবু শেখ, হাকিল, আজিম, জামাল, ডালিম, নুসরাত, কাজল ও তানিয়া।

গত মে মাসে বাংলাদেশের ওই তরুণীকে গণধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন করা হয়। সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ মে রাতে মেয়েটির বাবা মানবপাচার ও পর্নোগ্রাফি আইনে হৃদয় বাবুসহ পাঁচজনকে আসামি করে ঢাকার হাতিরঝিল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) মাধ্যমে ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্যাতনের শিকার মেয়েটি ও নির্যাতনকারীদের দেশে আনার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. শহিদুল্লাহ।

গত ২৯ মে ভারতের আসামভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমএইটের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশি মেয়েটিকে নির্যাতনের তথ্য জানানো হয়। ওই সময় কয়েকজন মিলে এক তরুণীকে বিবস্ত্র করে যৌন নির্যাতনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ভারতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

ভিডিওতে দেখা পাঁচ নির্যাতনকারীর ছবি প্রকাশ করে তাদের সন্ধান চেয়ে পুরস্কারের ঘোষণা দেয় আসাম পুলিশ। ভিডিওটি বেঙ্গালুরুর একটি মোবাইল থেকে ছড়িয়ে পড়েছে বলে নিশ্চিত হওয়ার পর তৎপর হয় সেখানকার পুলিশ।