বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ওই দিনই বিশ্বের শিল্পোন্নত ও উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর জোট জি-২০–এর নেতারা বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখার লক্ষ্যের প্রতি তাঁদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ২০১৫ সালে প্যারিস চুক্তিতে এ ব্যাপারে একমত হয়েছিলেন বিশ্বনেতারা।

ইতালির রোমে দুই দিনের বৈঠক শেষে জি–২০ নেতারা বলেন, চলতি শতকের শেষে বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রাক্‌–শিল্পায়ন যুগের চেয়ে দেড় ডিগ্রির বেশি বাড়তে দেওয়া হবে না। তবে এ লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজনীয় কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, সে ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হয়নি। বিশেষ করে ২০৫০ সালের মধ্যে ‘নেট জিরো’ বাস্তবায়নের বিষয়ে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। নেট জিরো হলো যতটা ক্ষতিকর গ্যাস নির্গমন হচ্ছে, বায়ুমণ্ডল থেকে ততটাই অপসারণ করার পরিকল্পনা।

default-image

এ পটভূমিতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক টুইটে বলেন, ‘জি–২০ নেতাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্তের বিষয়টিকে যখন আমি স্বাগত জানাই, তখন আমি অপূর্ণ আশা নিয়েই রোম ছাড়ি—কিন্তু আশার অন্তত কবর হয়নি।’

জি-২০–ভুক্ত দেশগুলোই বিশ্বের ৮০ শতাংশের বেশি কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী। তাই তাদের কাছ থেকেই জোরালো পদক্ষেপ আসতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ২০২০ সালের মধ্যে বছরে এ–সংক্রান্ত অর্থায়ন ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার কথা ছিল। ধনী দেশগুলো তা পূরণ করেনি। অন্যদিকে উদীয়মান অর্থনীতির দেশ ভারতসহ গরিব দেশগুলো তাদের কয়লা ও জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা কমাতে আরও বেশি অর্থ চায়।

পদক্ষেপ গ্রহণে আর ‘এক মিনিট’ দেরি করারও সুযোগ নেই: বরিস জনসন। গতকাল থেকে দুই দিনের আলোচনায় যোগ দিচ্ছেন ১২০টির বেশি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানেরা।

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ কার্বন নিঃসরণকারী দেশ চীন দেরিতে হলেও তাদের সংশোধিত জলবায়ু পরিকল্পনা জাতিসংঘে পেশ করেছে। তবে এতে আগের বিষয়গুলোর পুনরাবৃত্তিই রয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না। তবে তাঁর লিখিত বক্তব্য গতকাল সম্মেলনে তুলে ধরার কথা ছিল। ভারতও এরই মধ্যে প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী তাদের হালনাগাদ অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছে। তবে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির গতকাল ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল। সেখানে তাঁর নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল। এদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান শেষ মুহূর্তে তাঁর সম্মেলনে যোগদানের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন। তবে সিদ্ধান্তের কারণ জানানো হয়নি।

গতকাল থেকে দুই দিনের আলোচনায় যোগ দিয়েছেন বিশ্বের ১২০টির বেশি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা। তাঁদের দিকে চেয়ে আছে গোটা বিশ্ব।

এক খোলা চিঠিতে সাড়াজাগানো পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ বিশ্বনেতাদের প্রতি বলেছেন, ‘আমরা সারা বিশ্বের মানুষ আপনাদের প্রতি জরুরি ভিত্তিতে জলবায়ুর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানাই।’

এই খোলা চিঠিতে প্রায় ১০ লাখ মানুষ সই করেছেন।

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন