default-image

ভয়াবহ বোমা হামলা থেকে প্রাণে রক্ষা পেলেন আফগানিস্তানের ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ। তাঁকে লক্ষ্য করে চালানো ওই বোমা হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এমন সময় এই হামলা হলো, যখন তালেবান ও আফগান কর্তৃপক্ষ প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ বুধবার সকালে রাজধানী কাবুলে রাস্তার পাশে এই বোমা হামলা হয়। এতে আমরুল্লাহ সালেহর মুখ ও হাত কিছুটা পুড়ে গেছে। বিস্ফোরণের পরপরই ধারণ করা এক ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে ঘটনাস্থলে ঘন কালো ধোঁয়া উড়ছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

আফগানিস্তানে দুজন ভাইস প্রেসিডেন্টের একজন হলেন আমরুল্লাহ সালেহ। তিনি তালেবানবিরোধী বলে পরিচিত। এর আগে তিনি দেশটির গোয়েন্দাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

কারা এই হামলা চালিয়েছে, তা তাৎক্ষণিক জানা যায়নি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কেউ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক টুইট বার্তায় বলেছেন, তাঁর সংগঠন এই হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়।

আফগান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তারেক আরাইন বলেন, রাস্তার পাশে বোমা রাখা হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল ভাইস প্রেসিডেন্ট সালেহর গাড়িবহর। তাঁর গাড়িবহর ওই এলাকা পেরিয়ে যাওয়ার সময় বোমা বিস্ফোরণ হয়। এতে ওই এলাকায় কাজ করা ১০ জন বেসামরিক লোক প্রাণ হারায়। হামলায় সালেহর দেহরক্ষীসহ ১৫ জন আহত হন।

বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি বিস্ফোরণের পর পর বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, তিনি ওই সড়ক দিয়ে একটি ক্লিনিকে যাচ্ছিলেন। ওই সময় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তিনি তাঁর সঙ্গে থাকা এক ভাইকে খুঁজে পাচ্ছেন না। অন্য এক ভাই হামলায় আহত হয়েছেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রত্যক্ষদর্শী ওই ব্যক্তি বলেন, ‘এ কেমন সরকার? কোনো অ্যাম্বুলেন্স নেই, এমনকি হতাহতদের উদ্ধার করতে পুলিশ পর্যন্ত এখনো ঘটনাস্থলে আসেনি।’

default-image

এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। তিনি বলেন, আফগানিস্তানের মানুষ শান্তি ও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। কিন্তু সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও তাদের বিদেশি মদদদাতারা বিষয়টি বুঝতে চাচ্ছে না।

আফগানিস্তানে থাকা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একজন প্রতিনিধি এই হামলায় সহমর্মিতা জানিয়ে বলেন, শান্তি বিরোধীরা এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাদের অবশ্যই সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে।

বিজ্ঞাপন
default-image

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নিজেদের মধ্যকার দীর্ঘ ১৮ বছরের দ্বন্দ্ব নিরসনের লক্ষ্যে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করে যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবান। ওই শান্তি চুক্তির পর মার্কিন বাহিনী লক্ষ্য করে তালেবান হামলা বন্ধ হয়। যদিও আফগান সেনাবাহিনী ও সরকারের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চলমান ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা ওই চুক্তিতে তালেবান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারা শহর বা নগরে কোনো হামলা চালাবে না।

তালেবানের সঙ্গে পরোক্ষ শান্তি আলোচনা চালিয়ে আসছে আফগান সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় অল্প কিছু দিনের মধ্যেই এই দুই পক্ষ কাতারের রাজধানী দোহাতে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসার কথা। আফগান সরকারের কর্তাব্যক্তিদের প্রত্যাশা, এই আলোচনার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা রক্তক্ষয়ী সমস্যার সমাধান হবে দেশটিতে।

আফগানিস্তানে কট্টরপন্থী তালেবান ছাড়াও আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) সক্রিয় রয়েছে। গত মাসে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর জালালাবাদের একটি কারাগারে হামলায় ২৯ জন নিহত হয়, পালানোর চেষ্টা করে এক হাজার বন্দী। ওই হামলার দায় স্বীকার করে আইএস।

মন্তব্য পড়ুন 0