মধ্যপ্রাচ্যে সেনা মোতায়েন নিয়ে সংশয় তৈরি ট্রাম্পের

বিজ্ঞাপন
default-image

মধ্যপ্রাচ্যে সেনা মোতায়েন নিয়ে এবার ভিন্ন তথ্য দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তিনি আগেই সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে ইরান ওই অঞ্চলের তেল সরবরাহব্যবস্থার ক্ষতি করতে পারে—এ আশঙ্কায় নিজেকে বিরত রেখেছিলেন।

আজ বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের বক্তব্য থেকে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের তেল রক্ষায় আসলে কী চেয়েছিলেন, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে পারমাণবিক বোমা তৈরিতে থেকে বিরত রাখতে সামরিক অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। তবে ওয়াশিংটনের আশঙ্কা ছিল, এতে উপসাগরের তেল সরবরাহকে হুমকির মধ্যে ফেলতে পারে ইরান। সেই চিন্তা থেকে তিনি সেনাশক্তি প্রয়োগ থেকে সরে এসেছিলেন।

উপসাগরে প্রবেশমুখে হরমুজ প্রণালিতে দুটো তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় ইরানকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দুটি দেশের মধ্যে এখন সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি বিদ্যমান। গত মে মাসে একই ধরনের হামলার পর এই হামলার কথাও ইরান অস্বীকার করেছে। তবে ইরানের সঙ্গে ছয়টি দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে তিক্ততা বিরাজ করে। গত বছরের মে মাসে ওই চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে চুক্তি করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি ও চীন। চুক্তি অনুসারে, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ সীমিত রাখবে। ইউরেনিয়াম পারমাণবিক বৈদ্যুতিক চুল্লি এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ব্যাপারে চুক্তিভুক্ত বাকি দেশগুলো কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ২৭ জুনের মধ্যে ইউরেনিয়াম উৎপাদনে চুক্তির সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। তবে সেটি না করার জন্য ইরানকে সতর্ক করেছে জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য।

যুক্তরাষ্ট্র শুধু ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ক্ষান্ত হয়নি, বিশ্বজুড়ে তাদের মিত্রদেশগুলোকেও ইরান থেকে তেল না কিনতে চাপ দিচ্ছে। দেশগুলো কথা না শুনলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে।

টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজ দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতার সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন। রিপাবলিকান কিছু আইনপ্রণেতা ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনার ওপর জোর দিয়েছিলেন। ট্রাম্প বলেন, ওমান উপসাগরীয় এলাকায় গত সপ্তাহে তেলের ট্যাংকারের ওপর হামলার ঘটনাটি ‘ছোটখাটো’ প্রভাব ফেলেছে এখন পর্যন্ত।

পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ইরানকে ঠেকাতে সামরিক অভিযান পরিচালনা করবেন, নাকি উপসাগর তেলের অবাধ সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়টি বেছে নেবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়টিকেই প্রাধান্য দেন। পরের বিষয়টি তিনি প্রশ্নবিদ্ধ রাখেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য পদত্যাগ করা ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্যাট্রিক শানাহান গত সোমবার ঘোষণা দিয়েছিলেন, ইরান ইস্যুতে মধ্যপ্রাচ্যে এক হাজার সেনা মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র। পারিবারিক সহিংসতার এক ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর গতকাল মঙ্গলবার সকালে তিনি পদত্যাগ করেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে কোনো সংঘাত চায় না।

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে হামলা করতে পারে বলে গত মাসে নিজ দেশের গোয়েন্দা প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে সর্বোচ্চ সতর্কব্যবস্থা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও ইরান ওই প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন