এক শতকের মধ্যে থাইল্যান্ডের ‘রয়্যাল কনসোর্ট’ মর্যাদা পাওয়া নারী সিনিনাত। ছবি: রয়টার্স
এক শতকের মধ্যে থাইল্যান্ডের ‘রয়্যাল কনসোর্ট’ মর্যাদা পাওয়া নারী সিনিনাত। ছবি: রয়টার্স ছবি: রয়টার্স

প্রেমিকা সিনিনাত ওয়ংভাজিরাপাকদির কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া ‘রয়্যাল কনসর্ট’ বা ‘রাজসঙ্গী’র মর্যাদা ফিরিয়ে দিয়েছেন থাইল্যান্ডের রাজা ভাজিরালংকরান। একই সঙ্গে সিনিনাত তার সামরিক পদও ফিরে পাচ্ছেন। বুধবার রাজপ্রাসাদ থেকে এক ঘোষণায় এ কথা বলা হয়েছে বলে জানায় রয়্যাল গেজেট। রয়্যাল গেজেটের বরাত দিয়ে বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

গত বছরের জুলাই মাসে সিনিনাতকে ‘রয়্যাল কনসর্ট’ মর্যাদা দেওয়ার পর অক্টোবরেই তা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। সেসময় রাজপ্রাসাদ থেকে বলা হয়েছিল, মর্যাদা পাওয়ার পর সিনিনাত রানির সমমর্যাদা লাভের চেষ্টা করেন। সিনিনাতের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও তোলা হয়েছিল তখন। এ ছাড়া রাজতন্ত্রের প্রতি আনুগত্যহীনতা ও অসদাচরণও তার মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার পেছনে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে বুধবার রয়্যাল গেজেটে প্রকাশিত ঘোষণায় বলা হয়, সিনিনাত ভুল কিছু করেননি।

default-image
বিজ্ঞাপন

থাইল্যান্ডের রাজাদের একাধিক স্ত্রী কিংবা রয়্যাল কনসোর্ট রাখা শত বছরের পুরোনো রেওয়াজ। তবে গেল এক শতকে সিনিনাতই প্রথম নারী যিনি এই মর্যাদা লাভ করেন। এর আগে ১৯২০-এর দশকে সর্বশেষ কোনো থাই রাজা কনসোর্ট নিয়োগ করেছিলেন। ১৯৩২ সালে সাংবিধানিকভাবে রাজতন্ত্রে প্রবেশ করে থাইল্যান্ড। এরপর কখনো রয়্যাল কনসোর্ট নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

বিজ্ঞাপন

থাই রাজা ভাজিরালংকরান বর্তমানে বেশি সময় জার্মানিতে থাকছেন। তিনি ৭ সন্তানের জনক। রাজার চতুর্থ রানি সুথিদা এক সময় থাই এয়ারওয়েজ-এ ফ্লাইট এটেনডেন্টের কাজ করতেন। বিয়ের আগে দীর্ঘদিন তাঁকে রাজার সঙ্গে জনসম্মুখে দেখা গিয়েছিল। যদিও বিয়ের আগে তাঁদের সম্পর্কের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি কখনো। এ দিকে রানি সুথিদাকে বিয়ের পরও রাজপ্রাসাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত যাতায়াত ছিল ১৯৮৫ সালে জন্ম নেওয়া রয়্যাল কনসোর্ট সিনিনাতের।

থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে বেড়ে ওঠা সিনিনাত এক সময় নার্স হিসেবে কাজ করতেন। এরপর রাজার দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োগ পান বিমান চালনা ও প্যারাসুটে দক্ষ এই নারী। বর্তমানে তিনি থাইল্যান্ডের সামরিক বাহিনীর মেজর জেনারেল পদেও আছেন।

মন্তব্য পড়ুন 0