default-image

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি উপেক্ষা করে চীনের প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়েকে ‘ফাইভ জি’ স্থাপনের কাজ দিয়েছে যুক্তরাজ্য। গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের (ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল) সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ব্রিটিশদের এমন সিদ্ধান্তে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

হুয়াওয়ে চীন সরকারের পক্ষে গোয়েন্দাগিরি করে- এমন অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের। দেশটি বলছে, হুয়াওয়েকে নেটওয়ার্ক স্থাপনের কাজে যুক্ত করা হলে তথ্যের নিরাপত্তা অরক্ষিত হয়ে পড়বে। চীন সরকার ঘরে বসেই সবকিছু দেখতে পাবে। সেই সঙ্গে নেটওয়ার্ক অকেজো করে দেওয়ার মাধ্যমে বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনার আশঙ্কা তৈরি হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন হুমকি দিয়েছিল- ফাইভ জি স্থাপনের কাজে হুয়াওয়েকে যুক্ত করা হলে ব্রিটিশদের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য কিংবা স্পর্শকাতর খবরাখবর-খবর বিনিময় বন্ধ করে দেবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বিচ্ছেদের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে সম্পর্ক আরও নিবিড় করার যে আলোচনা চলছে, সেটিও বানচাল হয়ে যেতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের এমন আপত্তির কারণে দীর্ঘদিন যাবৎ যুক্তরাজ্যে ‘ফাইভ জি’ স্থাপনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়টি ঝুলে ছিল। হুয়াওয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নব-নির্বাচিত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের নেতৃত্বের জন্য অন্যতম বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায়।

শেষ পর্যন্ত হুয়াওয়েকে কাজ দিলেও কিছুটা মধ্যম পন্থা নিয়েছে বরিসের সরকার। মঙ্গলবার নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্পর্শকাতর স্থাপনা- যেমন পারমাণবিক কেন্দ্র কিংবা সামরিক ঘাঁটিতে হুয়াওয়ে কোনো প্রবেশাধিকার পাবে না। ফাইভ জি স্থাপন ও ব্যবস্থাপনার কাজে হুয়াওয়ের মোট শেয়ার ৩৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না বলেও সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

বিবিসি’র নিরাপত্তা-বিষয়ক প্রতিবেদক গর্ডন কোরেরা বলেন, যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান ‘ফোর জি’ নেটওয়ার্কে হুয়াওয়ে ইতিমধ্যে ভালোভাবেই জড়িয়ে আছে। ‘ফোর জি’ অবকাঠামোর অনেক কিছুই হুয়াওয়ের। ফলে ‘ফাইভ জি’ থেকে হুয়াওয়েকে বাদ দিতে হলে বিদ্যমান অবকাঠামোর অনেক কিছুই বাদ দিতে হবে। নতুন করে নেটওয়ার্ক স্থাপনের পুরো কাজ করতে হবে, যা অনেক জটিল, ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ।

গর্ডন কোরেরা বলেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার অন্যতম মিত্রদেশ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগকে পুরোপুরি নাকচ করে দিতে চায়নি। তাই হুয়াওয়ের বিচরণ সীমাবদ্ধ করার মাধ্যমে তৃতীয় উপায় খুঁজে নিয়েছে।

হুয়াওয়ের পাশাপাশি ‘এরিকসন’ এবং ‘নকিয়া’ ফাইভ জি স্থাপনের কাজ করে। কিন্তু প্রযুক্তির দিক থেকে তারা এখনো হুয়াওয়ে থেকে পিছিয়ে। এরিকসন কিংবা নকিয়াকে কাজ দেওয়া হলে ফাইভ জি স্থাপন কমপক্ষে ১৮ মাস বিলম্ব হবে এবং ব্যয় অনেক বাড়বে বলে ধারণা।

বিবিসির খবরে বলা হয়, জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের আগে এবং পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। নিরাপত্তার বিষয়ে তাঁকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন।

তবে হুয়াওয়েকে কাজে যুক্ত করার প্রতিক্রিয়ায় চরম হতাশা ব্যক্ত করেছে মার্কিন প্রশাসন। দেশটির সিনেটের ইন্টেলিজেন্ট কমিটির সদস্য সিনেটর টম কটন ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান নতুন করে পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। হুয়াওয়েকে ফাইভ জি নেটওয়ার্ক স্থাপনে যুক্ত করার মাধ্যমে যুক্তরাজ্য নিজেদের চীনের কাছে উন্মুক্ত করে দিয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস বলেন, হুয়াওয়ে নিরাপত্তার জন্য হুমকি হবে না, এমনটি ব্রিটিশ নিরাপত্তা-বিষয়ক কর্মকর্তারা নিশ্চিত বলেই কোম্পানিকে কাজ দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি আলোচনার জন্য আজ বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও লন্ডন আসছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0