মধ্যপ্রাচ্য

ইসরায়েল–আরব সম্পর্ক

মিত্র হারিয়ে ঐক্যবদ্ধ ফিলিস্তিনের জনগণ

গতকাল হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের সঙ্গে আমিরাত ও বাহরাইনের চুক্তি সই।

বিজ্ঞাপন
default-image

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নয়—এমন নীতিতেই দীর্ঘদিন চলছিল আরব দেশগুলো। কিন্তু সেই নীতি থেকে হঠাৎ করেই সরে এসেছে তারা। আরব দেশগুলো একে একে চিরশত্রু দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলছে। তাই মিত্র হারানো ফিলিস্তিনিরা অধিকার আদায়ে নিজেদের মধ্যে ঐক্য তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছেন। বৃহৎ ঐক্য গড়ে তুলতে বহুপক্ষীয় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বিভক্ত রাজনৈতিক দলগুলো। একই সঙ্গে গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরের মধ্যে সম্পর্কের সেতুবন্ধ তৈরিতেও কাজ করছে তারা।

আল–জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, প্রথম উপসাগরীয় আরব দেশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঘোষণা দেয় গত মাসে। সেই পথে হেঁটেছে আরেক উপসাগরীয় দেশ বাহরাইনও। ইসরায়েলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর এই সম্পর্ক গড়ে তোলার মূল কারিগর যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের সঙ্গে আমিরাত ও বাহরাইনের ওই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার তিন বছর পর ১৯৪৮ সালে ব্রিটিশশাসিত ফিলিস্তিনে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের জন্ম হয়। পশ্চিমা বিশ্বের বানানো এই রাষ্ট্রকে কখনো মেনে নেয়নি আরবরা। ১৯৫৬, ১৯৬৭ ও সবশেষ ১৯৭৩ সালে আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যুদ্ধ হয় ইসরায়েলের। প্রতিবারই আরবরা পরাজিত হয়। এরপর থেকেই ইহুদিদের কাছে জমি হারাতে বসে ফিলিস্তিনিরা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দুটি রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে সংঘাত মেটানোর চেষ্টা করলেও তা এখনো সফলতার মুখ দেখেনি।

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় আরব দেশগুলো প্রধান তিনটি শর্ত দিয়েছিল। সেগুলো হলো, যুদ্ধের সময় আরব দেশগুলোর দখল করা জমি ছেড়ে দেওয়া, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ও স্বীকৃতি এবং ফিলিস্তিনের দখল করা জমি হস্তান্তর। সেই শর্তের কোনোটা পূরণ না হওয়ার পরও আরব দেশগুলো ইহুদি রাষ্ট্রটির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলছে। এখন পর্যন্ত আমিরাত ও বাহরাইন ছাড়া আরও দুই আরব রাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের চুক্তি হয়েছে। ১৯৭৯ সালে মিসরের সঙ্গে এবং ১৯৯৪ সালে জর্ডানের সঙ্গে চুক্তি করে দেশটি।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
আল–জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, প্রথম উপসাগরীয় আরব দেশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঘোষণা দেয় গত মাসে। সেই পথে হেঁটেছে আরেক উপসাগরীয় দেশ বাহরাইনও। ইসরায়েলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর এই সম্পর্ক গড়ে তোলার মূল কারিগর যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের সঙ্গে আমিরাত ও বাহরাইনের ওই চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। ওই চুক্তিতে সই করার কথা আমিরাত ও বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর।
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দীর্ঘদিনের মিত্র দেশগুলোর ইসরায়েলের দিক ঝুঁকে পড়াকে হুমকি মনে করে ফিলিস্তিন। গতকাল ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গত শনিবার ফিলিস্তিনের ইসলামিক প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস ও ফিলিস্তিনের জাতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন ফাতাহের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো বিরোধ ভুলে ‘ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্বের ক্ষেত্র’ তৈরিতে রাজি হয়।

ইসরায়েলের সঙ্গে বাহরাইন ও আমিরাতের চুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করে গতকাল গাজা ও পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা দিনব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দেন। এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, আমিরাত ও বাহরাইনের দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ হয়। ফিলিস্তিনিরা দিনটিকে ‘প্রত্যাখ্যান দিবস’ হিসেবে পালন করেন।

ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য তৈরিতে ৩ সেপ্টেম্বর রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস, হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া, ইসলামিক জিহাদের প্রধান জিয়াদ আল–নাখালাসহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন