default-image

মিয়ানমারের দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান দুটির নাম জানানো হয়েছে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে রক্তপাতহীন সেনা অভ্যুত্থান হয়। তবে এরপর থেকে দেশটিতে চলমান সেনাশাসনবিরোধী বিক্ষোভে জান্তার গুলিতে ব্যাপক রক্তপাত দেখেছে বিশ্ববাসী। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে জান্তা সরকার ও মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কয়েক দফা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ওয়াশিংটন।

এর অংশ হিসেবে বুধবার রাষ্ট্রায়ত্ত মিয়ানমার টিম্বার এন্টারপ্রাইজ ও মিয়ানমার পার্ল এন্টারপ্রাইজকে জো বাইডেন প্রশাসন কালো তালিকাভুক্ত করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।  

বিজ্ঞাপন

আড়াই মাস ধরে মিয়ানমারে টানা বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি সুস্পষ্ট, সেনাশাসন প্রত্যাহার ও অং সান সু চির মুক্তি। বিক্ষোভে হতাহতদের সংখ্যা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রকাশ করে আসছে অধিকারবিষয়ক সংগঠন অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি)।

সংগঠনটি জানিয়েছে, জান্তাবিরোধী বিক্ষোভে সেনা-পুলিশের গুলিতে শিশুসহ অন্তত ৭৩৮ জন বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় সাংবাদিক, চিকিৎসক, তারকা শিল্পীসহ ৩ হাজার ৩০০ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আসিয়ান বৈঠক ঘিরে সমালোচনা

২৪ এপ্রিল ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনসের (আসিয়ান) সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

এতে যোগ দিতে যাচ্ছেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখলের পর এটাই হবে জান্তাপ্রধানের প্রথম বিদেশ সফর।

যদিও জান্তা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মিন অং হ্লাইংয়ের আসন্ন জাকার্তা সফর নিয়ে তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে জান্তাপ্রধানের আসিয়ান সম্মেলনে অংশগ্রহণ নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করেছে। মিন অং হ্লাইংয়ের আমন্ত্রণ প্রত্যাহারের জন্য আসিয়ানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (এশিয়া) ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, সেনা অভ্যুত্থানে ভূমিকা রাখা ও পরে নিজ দেশের জনগণের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালানোয় মিন অং হ্লাইং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয়েছেন। তাই আন্তরাষ্ট্রীয় একটি সম্মেলনে তাঁর উপস্থিতি কাম্য নয়।

তবে আসিয়ানের সদস্যদেশ ব্রুনেইয়ের সুলতান ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী হাসানল বলকিয়াহর দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রক্তক্ষয়ী সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসতে মিয়ানমারকে পথ দেখাতে চায় আসিয়ান। তবে জোটের নীতি অনুযায়ী, কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা হয় না। সুলতান বলকিয়াহর ২৪ এপ্রিল আসিয়ানের সম্মেলনে সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন