মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র

মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়নে তৈরি আছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে দেশটির জান্তা সরকারকে গণতান্ত্রিক সংস্কারের পথে হাঁটতে হবে। এ ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে দেশটিকে। মিয়ানমার সফর শেষে মার্কিন প্রতিনিধি গতকাল বৃহস্পতিবার ব্যাংককে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিষয়ক উপসহকারি মন্ত্রী স্কট মারসিয়েল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মিয়ানমার যদি তার দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কার না করে তবে চলমান মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না। মিয়ানমারের সার্বিক অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দেখতে চায় মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি ও অন্য রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে, দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং জান্তা সরকার প্রতিশ্রুত ২০১০ সালের নির্বাচনের আগে গণতান্ত্রিক সংস্কার হয়েছে।গণতন্ত্রের পথে মিয়ানমারের অগ্রগতি কেমন হওয়া উচিত, সে ব্যাপারে স্কট বলেন, মিয়ানমারের বিরোধী রাজনৈতিক দল যেমন সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি পার্টি এবং জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর সঙ্গে জান্তার কার্যকর আলোচনা হতে হবে। এটাকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আর এটা ছাড়া আগামী বছরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য হবে না।স্কট বলেন, আগামীবছর নির্বাচনে অং সান সু চির অংশগ্রহণজরুরি। সু চির অংশগ্রহণছাড়া নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে দেখাটা অত্যন্ত কঠিন হবে।এর আগে গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ট ক্যাম্পবেল ও স্কট মারসিয়েল মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে এক বিরল বৈঠক করেন। বৈঠক উপলক্ষে সু চিকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার অনুমতি দেয় জান্তা। সু চি ছাড়াও তাঁরা প্রধানমন্ত্রী থেইন সেইনের সঙ্গেও বৈঠক করেন। ওই দুই মার্কিন প্রতিনিধির দুই দিনের সফর বুধবারই শেষ হয়। গত দেড় দশকের মধ্যে মিয়ানমার সফরে যাওয়া সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা হলেন ক্যাম্পবেল। এর আগে মিয়ানমার সফরে যাওয়া সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা ছিলেন জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মেডেলিন অলব্রাইট। ১৯৯৫ সালে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের শাসনামলে তিনি মিয়ানমার সফরে যান।মার্কিন কর্মকর্তাদের সফরকে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা শুরুর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ইয়ান কেলি। অন্যদিকে অং সান সু চির রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র নিয়ান উইন বলেন, সফরটি যুক্তরাষ্ট্র ও মিয়ানমারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সূচনা। তবে এই সফর থেকে তাঁর দল বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আশা করছে না। ১৯৯০ সালে মিয়ানমারে সাধারণ নির্বাচনে এনএলডির বিজয়ের পরও তাদেরকে সরকার গঠন করতে দিতে অস্বীকৃতি জানায় জান্তা সরকার।এই দলটি আগামীবছরের নির্বাচনে অংশ নিবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত করেনি। এএফপি ও এপি।