default-image

মিয়ানমারে শান্তি ফেরাতে আলোচনার বিকল্প দেখছে না আঞ্চলিক জোট আসিয়ান। এ জন্য বিবদমান সব পক্ষকে আলোচনায় বসাতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে এ জোট। একই সঙ্গে মিয়ানমারের মানুষকে মানবিক সহায়তা দিতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছেন জোটের নেতারা।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরা জানায়, ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় শনিবার আসিয়ান নেতাদের বৈঠক শেষে জোটের পক্ষ থেকে দেওয়া পাঁচ দফায় এসব কথা বলা হয়েছে। মিয়ানমারে রক্তপাত বন্ধ করতে আয়োজিত এ বৈঠকে দেশটির সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আসিয়ানের পাঁচ দফায় বলা হয়েছে—
১. মিয়ানমারে বিবদমান সব পক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে সহিংসতার পথ ত্যাগ করবে ও চূড়ান্ত সংযম পালন করবে।
২. জনগণের স্বার্থে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যা সমাধানের উপায় খুঁজতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে গঠনমূলক সংলাপ শুরু করতে হবে।
৩. আসিয়ানের সেক্রেটারি জেনারেলের সহায়তায় জোটের চেয়ারম্যানের বিশেষ দূত সংলাপে মধ্যস্থতা করবেন।
৪. আসিয়ান মিয়ানমারে মানবিক সহায়তা প্রদান করবে।
৫. আসিয়ানের বিশেষ দূত ও প্রতিনিধিদল বিবদমান পক্ষগুলোর সঙ্গে কথা বলার জন্য মিয়ানমার সফর করবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পর জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং আজ প্রথম বিদেশ সফরে জাকার্তা পৌঁছান। অংশ নেন ১০ দেশের আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের বৈঠকে। বিক্ষোভ দমনের নামে মিয়ানমারে রক্তপাত বন্ধ করা, আলোচনার পথ খোলা রাখা, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও রাজবন্দীদের মুক্তি—জান্তাপ্রধানের কাছে এগুলোই ছিল আসিয়ান নেতাদের চাওয়া।

সম্মেলনের আয়োজক দেশ ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো বলেন, জান্তা সরকারকে মিয়ানমারে সহিংসতা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। গণতন্ত্র, স্থিতিশীলতা ও শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিন মিয়ানমারে চলমান হত্যা ও নৃশংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমি আশা করব রাজনৈতিক বন্দীদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাব মিয়ানমার নিঃশর্তভাবে বিবেচনা করবে।’

শান্তি ফেরাতে আসিয়ান দেশগুলোর ও আহ্বান ও উদ্যোগ মিয়ানমারে সেনাবাহিনী মেনে চলবে বলে আশা প্রকাশ করেন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সেইন লুং।

গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে নেয়। আটক করা হয় অং সান সু চিসহ দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের। এরপর থেকে দেশটিতে তুমুল বিক্ষোভ চলছে। আড়াই মাস ধরে চলা বিক্ষোভে মিয়ানমারে সেনা-পুলিশের গুলিতে এখন পর্যন্ত শিশুসহ সাত শতাধিক বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে অধিকার সংগঠন অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি)। আটক হয়েছেন সাংবাদিক, শিল্পীসহ তিন সহস্রাধিক বিক্ষোভকারী।

বিজ্ঞাপন
বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন