default-image

মিয়ানমারজুড়ে আজ রোববার জান্তাবিরোধী হাজারো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। এই বিক্ষোভ থেকে ‘বসন্ত বিপ্লবের’ ডাক দেওয়া হয়েছে।

মিয়ানমারের অন্যতম বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে ‘বসন্ত বিপ্লব’ ও নিজেদের শক্তি প্রদর্শনে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন অধিকারকর্মীরা। এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে গতকাল তরুণেরা প্রথমে ইয়াঙ্গুনের একটি সড়কের কোনায় জড়ো হন। এরপর দ্রুত তাঁরা সড়কে নামেন। তবে তাঁরা সংঘর্ষ এড়াতে দ্রুত সটকে পড়েন। ইয়াঙ্গুনের বিক্ষোভ প্রসঙ্গে একটি সূত্র এএফপিকে জানান, যে তরুণকে দেখা যাচ্ছে তাঁকেই গ্রেপ্তার করছেন তাঁরা (নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা)। এএফপির সঙ্গে যখন তাঁর কথা হয়, তখন লুকিয়ে ছিলেন ওই ব্যক্তি। তিনি আরও বলেন, ‘আমি এখন একটি ফাঁদে পড়েছি।’

এদিকে ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভ ছাড়াও কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে গতকাল। জান্তার পক্ষ থেকে এসব বোমা বিস্ফোরণের দায় চাপানো হচ্ছে ‘উসকানিদাতাদের’ ওপর।

বিজ্ঞাপন

বিক্ষোভ হয়েছে মিয়ানমারের শান রাজ্যেও। সেখানেও তরুণেরা বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ ছাড়া বিক্ষোভ হয়েছে মান্দালয়ে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান হয়। এ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেন সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং। আর এ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি ও প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টকে। এরপর থেকে দেশটির শহর, গ্রামাঞ্চল, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, এমনকি বিদ্রোহীনিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতেও বিক্ষোভ হচ্ছে। মিয়ানমারের স্থানীয় পর্যবেক্ষক গ্রুপ অ্যাসিসটেন্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্সের তথ্য অনুসারে, জান্তাবিরোধী এই বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ৭৫৯ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই দমনপীড়নের কথা স্বীকারও করেছে জান্তা।

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন