default-image

যুক্তরাজ্যের ট্যাবলয়েড পত্রিকা মেইল-এর বিরুদ্ধে করা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার মামলায় আরেক পরাজয় ঘটল ডাচেস অব সাসেক্স মেগান মার্কেলের। লন্ডনের হাইকোর্ট মঙ্গলবার এ রায় দিয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি জীবনী থেকে তথ্য ব্যবহারে আপত্তি ছিল মেগানের।
ডেইলি মেইল অন সানডে গত বছর একটি লেখা প্রকাশ করে। তাতে ২০১৮ সালে বাবা টমাস মার্কেলকে মেগানের হাতে লেখা একটি চিঠির বিভিন্ন তথ্য ছিল। বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেন রানি এলিজাবেথের নাতি প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান।

বিজ্ঞাপন

মামলাটির বিচার শুরু হবে আগামী বছরের জানুয়ারিতে। এর আগে গত সপ্তাহে পত্রিকাটি মামলাটির বিষয়ে সংশোধন আনার অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়। তাতে যুক্তি দেওয়া হয়, ২০১৮ সালের আগস্টে প্রকাশিত মেগান ও হ্যারির জীবনীগ্রন্থ ফাইন্ডিং ফ্রিডম লেখার ক্ষেত্রে তাঁরাই লেখকদের সহায়তা করেছেন। মেগান নিজেই ওই চিঠিসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করতে দিয়েছেন। মূলত গণমাধ্যমে তাঁর ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার এক প্রচারণার অংশ এটা।

পত্রিকাটির আইনজীবী অ্যান্টনি হোয়াইট আদালতকে বলেন, বইটিতে থাকা হ্যারি ও মেগানের ব্যক্তিগত তথ্য হয় তাঁরাই দিয়েছেন, না হয় তাঁদের অনুমতিপ্রাপ্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা সেগুলো প্রকাশ করেছেন। বইটিতেই স্পষ্ট যে এটা লেখার ক্ষেত্রে হ্যারি ও মেগানের ‘নিবিড় সহযোগিতা’ আছে।
তবে মেগানের আইনজীবী জাস্টিন রাশব্রুকের ভাষ্য, এসব দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। আর বইটির লেখকদের একজন ওমিড স্কুবি এক সাক্ষ্যমূলক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, হ্যারি ও মেগান বইটির অনুমতি দেননি বা তাঁরা কোনো সাক্ষাৎকার দেননি।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু লন্ডন হাইকোর্টের বিচারক ফ্রান্সিসকা কায়ে মঙ্গলবারের আদেশে বলেছেন, মেইল-এর আবেদনকে ‘নিরর্থক বা একেবারে কল্পনাপ্রসূত’ বলা যাবে না।
এই রায় মেগানের জন্য একই মামলায় উপর্যুপরি দ্বিতীয় ধাক্কা। এর আগে গত মে মাসে তাঁর এক আবেদন আদালতে প্রত্যাখ্যাত হয়। ওই আবেদনে দাবি করা হয়েছিল, পত্রিকাটি অসাধু আচরণ করেছে। মেগানের সঙ্গে তাঁর বাবার সম্পর্কে ফাটল ধরিয়েছে।
রাজকীয় দায়িত্ব থেকে গত মার্চে সরে দাঁড়ান হ্যারি ও মেগান। বর্তমানে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বাস করছেন। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের ৪৮ শতাংশ মানুষ তাঁদের রাজকীয় উপাধিও বাতিল দেখতে চান।

মন্তব্য পড়ুন 0