default-image

সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৬ মে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আজ রোববার সিরিয়ার স্পিকার হামৌদা সাববাগ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছেন। গৃহযুদ্ধ শুরুর পর এটা হবে সিরিয়ায় আয়োজিত দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এর মধ্য দিয়ে সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল–আসাদের ক্ষমতা আরও জোরদার হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

বিবিসি ও আল–জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার থেকেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিবন্ধন শুরু হবে। আগামী ২০ মে বিদেশে অবস্থানরত সিরিয়ার নাগরিকেরা দূতাবাসে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন। আর ২৬ মে সিরিয়ায় পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে বিজয়ী ব্যক্তি পরবর্তী সাত বছরের জন্য সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানিয়েছেন দেশটির স্পিকার।

বিজ্ঞাপন

এবারের নির্বাচনে সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাশার আল–আসাদ আবারও প্রার্থী হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর ভোটে দাঁড়ালে সহজেই জয় পাবেন আসাদ।

কেননা পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন না থাকলেও গৃহযুদ্ধকবলিত সিরিয়ায় আসাদের শক্ত কোনো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী নেই।

আরব বসন্তের পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অনেক দেশের মতো সিরিয়াতেও ২০১১ সালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। গণতন্ত্রের দাবিতে শুরুতে দেশটিতে ছোটখাটো বিক্ষোভ হয়। দ্রুতই এ বিক্ষোভ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ দমনে শুরু থেকেই নৃশংস পথ বেছে নেন প্রেসিডেন্ট বাশার আল–আসাদ। এতে দীর্ঘমেয়াদি গৃহযুদ্ধের চক্করে পড়ে যায় দেশটি।

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের ১০ বছর পূর্ণ হয়েছে। একসময়ের সমৃদ্ধ সিরিয়া এখন রীতিমতো ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। দেশি-বিদেশি নানা পক্ষের রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে দেশটি।

তবে যুদ্ধের দামামায় সবচেয়ে ক্ষতির শিকার হয়েছে সিরিয়ার জনগণ। এক দশকের গৃহযুদ্ধে দেশটিতে প্রায় চার লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। উদ্বাস্তু হয়েছে সিরিয়ার মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি মানুষ। এত কিছুর পরও ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে সরানো যায়নি বাশার আল–আসাদকে। রাশিয়ার সমর্থনে এখনো প্রেসিডেন্ট পদে টিকে আছেন তিনি।

যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় সর্বশেষ ২০১৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে ৯২ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন বাশার আল–আসাদ। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়াও দেশটির আসাদবিরোধী হিসেবে পরিচিতরা ‘অগণতান্ত্রিক ও অবৈধ’ বলে ওই নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখান করেছিল।

শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় এবারের নির্বাচনেও বাশার আল–আসাদ জয় পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। কেননা, ক্ষমতার ভিত শক্ত করতে ২০১২ সালেই সংবিধান সংশোধন করেছেন তিনি। আল–জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের নির্বাচনের

আগেই সংবিধান সংশোধন করে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ সাত বছর করেছেন আসাদ। একজনের দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

সংশোধিত সংবিধানের আওতায় প্রেসিডেন্ট পদে সাত বছরের এক মেয়াদ শেষ করতে যাচ্ছেন বাশার আল–আসাদ।

দেশটির বর্তমান সংবিধানে আরও বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভোটে দাঁড়াতে হলে প্রার্থীকে অবশ্যই ন্যূনতম ১০ বছর সিরিয়ায় বসবাস করতে হবে। অন্তত ৩৫ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন লাগবে সম্ভাব্য প্রার্থীর। সিরিয়ায় এখনকার সংসদে বাশার আল–আসাদের রাজনৈতিক দল বাথ পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। এ কারণে নির্বাসনে থাকা বিরোধীদের জন্য বাশার আল–আসাদের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন
বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন