default-image

দুই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লেভিটস্কি ও জিবলাট স্মরণ করেছেন, একটা সময় ছিল যখন গণতন্ত্রের মৃত্যু বলতে বোঝাত সেনা অভ্যুত্থান বা ক্যু। যেভাবে দেশি-বিদেশি সমর্থনে চিলিতে, পাকিস্তানে বা বাংলাদেশে সেনা সদস্যরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতায় বসেছে। সে নাটকের পুনরাভিনয় এখনো হয়ে চলেছে আফ্রিকার দেশ সুদান, বুরকিনা ফাসো বা মালিতে। দেখা যাচ্ছে রাস্তায় ট্যাংক, রাষ্ট্রপতি ভবনে সেনা অবরোধ, শাসনতন্ত্রের অবলুপ্তি।

কিন্তু রাস্তায় ট্যাংক না নামলেও গণতন্ত্রের মৃত্যু হয় যখন প্রথামাফিক নির্বাচিত হলেও ক্ষমতার কেন্দ্রে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি বা দলের হাতেই নাগরিক অধিকার ভূলুণ্ঠিত হয়, বাক্‌স্বাধীনতা অপহৃত হয়, আইনের শাসন প্রত্যাখ্যাত হয়। এই জাতীয় রাষ্ট্রে কাগজে-কলমে সবই ‘আইনমাফিক’ হয়ে থাকে। যেমন, যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের নাটক, যদিও সে নাটকের প্রস্তুতি হিসেবে বিরোধী দলের ওপর নেমে আসে কঠোর বিধিনিষেধ। আজকের রাশিয়া বা নিকারাগুয়ার কথা ভাবুন। আলোচনায় এসেছে, প্রেসিডেন্ট পুতিন তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আলেক্সেই নাভালনিকে প্রথমে বিষ খাইয়ে মারতে চাইলেন! তাতে ব্যর্থ হলে তাঁকে দুর্নীতির অভিযোগে জেলে ঢোকানো হলো। এখন তাঁর বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ তোলা হয়েছে, যা প্রমাণিত হলে (!) নাভালনিকে আগামী ২০ বছর জেলে কাটাতে হবে। নিকারাগুয়ায় প্রেসিডেন্ট দানিয়েল ওর্তেগা নির্বাচনের আগে একজন নয়, তাঁর সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীকে জেলে ঢুকিয়েছিলেন। স্ত্রীকে ভাইস প্রেসিডেন্ট বানিয়ে গত নভেম্বরে চতুর্থবারের মতো তিনি পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।

যত অগণতান্ত্রিক বা নিবর্তনমূলক হোক না কেন, এসবই করা হচ্ছে জাতীয় নিরাপত্তার নামে। একই যুক্তিতে বিচারব্যবস্থাকে ইচ্ছেমতো ঢেলে সাজানো হচ্ছে। যেমন পোল্যান্ডে আইন জারি হয়েছে যার অধীনে সরকার চাইলে যেকোনো বিচারককে পদচ্যুত করতে পারেন, যাকে খুশি যেকোনো আদালতে দায়িত্ব দিতে পারেন। হাঙ্গেরিতে প্রধানমন্ত্রী ভিক্তর ওরবান আরও এক ধাপ এগিয়ে এসে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণের নামে শাসনতন্ত্র উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত ডিক্রির মাধ্যমে দেশ চালানোর অধিকার পেয়েছেন। সাংবাদিকেরা এই ব্যবস্থার নাম দিয়েছে ‘করোনা ক্যু’। বলা বাহুল্য, কাগজে-কলমে এই দেশগুলো সবই গণতান্ত্রিক।

লেভিটস্কি ও জিবলাটই প্রথম নন যাঁরা গণতন্ত্রের এমন বিপদ সম্বন্ধে আমাদের সাবধান করে দেন। হাউ ডেমোক্রেসিস ডাই গ্রন্থ প্রকাশের প্রায় দুই দশক আগে, ১৯৯৭ সালে ফরেন অ্যাফেয়ার্স পত্রিকায় ভারতীয়-মার্কিন লেখক ও সাংবাদিক ফরিদ জাকারিয়া ‘ইললিবারেল ডেমোক্রেসি’ নামক এক প্রবন্ধে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়া মানেই তা গণতান্ত্রিক নয়। যেখানে নাগরিক অধিকারের কোনো স্থান নেই, নির্বাচনী ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় নাগরিক অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত, মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের অধিকার সংকুচিত, রাজনৈতিক বিরোধিতার ফল রাষ্ট্রীয় নিবর্তন, জাকারিয়া এমন ব্যবস্থার নাম দিয়েছিলেন ইললিবারেল বা অনুদার গণতন্ত্র।

১৯৯৭ সালে তাঁর সে প্রবন্ধে জাকারিয়া বসনিয়া, আর্জেন্টিনা, কাজাখস্তান—এমনকি বাংলাদেশের কথা বলেছিলেন, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কথা তাঁর মাথায় আসেনি। প্রায় ২০ বছর পর, ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি নিজের ভুল শুধরে লিখেছিলেন, অনুদার গণতন্ত্র এখন যুক্তরাষ্ট্রেও এসে হাজির।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ফ্রিডম হাউস মনে করে, হাঙ্গেরি ও পোল্যান্ডের মতো আপাতগণতান্ত্রিক দেশ আসলে একধনের ‘হাইব্রিড বা মিশ্র শাসনব্যবস্থা, যা কিছুটা গণতান্ত্রিক–কিছুটা কর্তৃত্ববাদী। এই মিশ্র শাসনব্যবস্থা রাতারাতি জায়গা করে নেয় না, এর জন্য সময় প্রয়োজন। আরও প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক রাজনৈতিক প্রশাসনের ও নাগরিক গোষ্ঠীর একাংশের সমর্থন। অন্য কথায়, গোপনে রাতের অন্ধকারে ট্যাংক নামিয়ে নয়, রীতিমতো নাগরিক সমর্থনেই ঘটে পূর্ণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মৃত্যু।

কীভাবে এই মৃত্যু ঘটে তার দুটি উদাহরণ বিবেচনা করা যাক।

যুক্তরাষ্ট্র ও ট্রাম্পের শ্বেত শ্রেষ্ঠত্ববাদ

আমরা জানি, ডোনাল্ড ট্রাম্প গত নির্বাচনের ফলাফল মানেননি, বরং সে ফলাফল পাল্টে দেওয়ার জন্য সম্ভাব্য সব অশাসনতান্ত্রিক পথ, এমনকি সামরিক শক্তি ব্যবহারের কথাও ভেবেছিলেন। কিন্তু তিনি সফল হননি। একান্ত অনুগত হওয়া সত্ত্বেও ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স তাঁর কথা শুনে শাসনতন্ত্রের বাইরে গিয়ে নির্বাচনী ফলাফল প্রত্যাখ্যানে কোনো সমর্থন দেননি। সুপ্রিম কোর্ট, যাঁর অধিকাংশ সদস্য তাঁর প্রতি আদর্শগতভাবে অনুগত, তাঁরাও নির্বাচনী ফলাফলে কোনো কারচুপি আছে, ট্রাম্পের এই অভিযোগ কানে তোলেননি। এ কারণে অনেকেই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্ত, তাতে আঁচড় লাগতে পারে, কিন্তু সে ভেঙে পড়বে না।

default-image

এ কথা কতটা সঠিক, তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। আগামী নির্বাচনের ফলাফল যাতে তাদের অনুকূলে যায় সে জন্য সারা দেশে রিপাবলিকান নেতৃত্ব উঠেপড়ে লেগেছেন। তাঁদের লক্ষ্য, অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে অশ্বেতকায় এমন নাগরিকদের ভোটাধিকারের সংকোচন। পাশাপাশি নির্বাচনী সীমানা এমনভাবে ঢেলে সাজানো, যাতে বিরোধী কোনো রাজনীতিক নির্বাচিত না হয়, তা নিশ্চিত করা। তাদের আরেক চেষ্টা, নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় এমন লোকদের নিয়োগ প্রদান যারা শুধু রিপাবলিকান দলীয় তা–ই নয়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মিথ্যা বিজয় দাবির’ পূর্ণ সমর্থক। অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যায়নের দায়িত্বে থাকেন সে রাজ্যের সেক্রেটারি অব স্টেট। ২০২২ সালের নভেম্বরে যে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তাতে ‘ব্যাটল গ্রাউন্ড’ নামে পরিচিত প্রায় এক ডজন প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে এমন লোকের সেক্রেটারি অব স্টেট নির্বাচিত হয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যাঁরা খোলামেলাভাবে ট্রাম্পের আশীর্বাদ নিয়ে নির্বাচিত হওয়ার চেষ্টায় রয়েছেন। দায়িত্ব পেলে তাঁরা নাগরিক ভোটের ফলাফলে তোয়াক্কা না করে নিজের রাজনৈতিক আনুগত্য মেনে নির্বাচন প্রত্যায়িত করবেন, এই ভয় মোটেই অমূলক নয়।

গত ডিসেম্বরে আটলান্টিক মান্থলি পত্রিকায় এক দীর্ঘ নিবন্ধে মার্কিন সাংবাদিক বার্টন গেলম্যান লিখেছেন, গত বছর ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্প সমর্থকদের হামলা ছিল একটি ক্যুর চেষ্টা। তারা ব্যর্থ হলেও আবারও ব্যর্থ হবে, তা ভাবার কোনো কারণ নেই। গেলম্যানের দাবি, পরবর্তী ক্যুর আয়োজন ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। সহিংসতার মাধ্যমে নয়, চক্রান্তের মাধ্যমে এই ক্ষমতা দখল সম্পন্ন হবে। নিজেদের পছন্দমাফিক নির্বাচন ফলাফল অর্জনের জন্য লাখ লাখ ব্যালট বাতিল করা হবে। বিজয়ীর বদলে পরাজিত প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। ‘২০২০ সালের নির্বাচন ছিল গণতন্ত্র হত্যার মহড়া, ২০২৪ সালে সে পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে।’

ভারত ও মোদির ধর্মবিভাজন

যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টির বিভেদাত্মক রাজনীতির কেন্দ্রে রয়েছে বর্ণভিত্তিক বিদ্বেষ। বহিরাগত ও অশ্বেতকায়দের সংখ্যাধিক্যের কারণে দেশের সংখ্যাগুরু শ্বেতকায় মনে করে তাদের ঈশ্বরপ্রদত্ত রাজনৈতিক অধিকার ও অবস্থান হুমকির মুখে। ভারতেও ঠিক সেই একই আওয়াজ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর দল। তাদের চোখে সে দেশের মুসলিমমাত্রই বহিরাগত, ভারতের প্রতি তাদের আনুগত্য প্রশ্নবিদ্ধ। অতএব তারা সবাই জাতীয় স্বার্থের প্রতি হুমকি।

default-image

বিরোধী কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার দল ধর্মীয় বিভাজনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করায় সারা দেশে এক হিংসাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য তিনি বিশেষভাবে দায়ী করেছেন বিজেপি-সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় স্বেচ্ছাসেবক দল আরএসএস ও হিন্দু মহাসভাকে। তামিলনাড়ুতে এক জনসভায় রাহুল গান্ধী বলেন, দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, আজকের ভারতে গণতন্ত্র মৃত।

ভারতে এই ধর্মীয় বিভাজন কীভাবে গণতন্ত্রের মৃত্যু ত্বরান্বিত করছে, তার দুটি উদাহরণ নেওয়া যাক। সম্প্রতি, হরিদ্বারে এক জনসভায় হিন্দু মহাসভার জ্যেষ্ঠ নেতা পূজা মান্ডে দেশের মুসলিমদের হত্যার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘যদি আমাদের মধ্যে ১০০ জন হিন্দু ২০ লাখ মুসলিম হত্যায় প্রস্তুত থাকি, তাহলে আমাদেরই জিত হবে।’ সে কথা শুনে টুঁ–শব্দটিও করেননি মোদি। প্রায় একই সময়ে ছত্তিশগড়ের এক গ্রামে বিজেপি সমর্থকদের এক সভায় সবাই শপথ নিয়েছে তারা কেউ মুসলিমদের সঙ্গে ওঠাবসা করবে না, তাদের দোকানে কেনাকাটা করবে না, কোনো মুসলিমের সঙ্গে জমি কেনাবেচা করবে না।

মহাত্মা গান্ধী ও নেহরুর ভারতে এমন অবস্থা হলো কীভাবে? ভারতীয় বুদ্ধিজীবী ইন্দিরা জয়সিংহ নিউইয়র্কার পত্রিকায় এ জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদিকে দায়ী করে মন্তব্য করেছেন, এ অবস্থা বদলাবে যেদিন ট্রাম্পের মতো মোদিও পরাজিত হবেন। তবে আপাতত তেমন সম্ভাবনা নেই। ধর্মীয় বিদ্বেষ এমনভাবে সবার মগজে ঢুকে গেছে যে দেশের অনেকের মনে মুসলিমদের প্রতি ঘৃণা ও প্রতিশোধস্পৃহা জন্মেছে।

তাহলে উপায়?

লেভিটস্কি ও জিবলাটের ভাষ্য অনুযায়ী, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাফল্যের দুটি পূর্বশর্ত—সহিষ্ণুতা ও বাড়াবাড়ি পরিহার। অন্তর্গতভাবে দুটি শর্তই অভিন্ন। গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে হলে শুধু প্রতিপক্ষের অধিকারের স্বীকৃতিই যথেষ্ট নয়, সংখ্যাগুরুর রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে অন্যের ওপর নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকাও জরুরি। যখন রাজনৈতিক মেরুকরণ ও বিভক্তি চূড়ান্ত আকার ধারণ করে তখন এই দুই শর্তই উপেক্ষিত হয়।

ট্রাম্প ও মোদি উভয়েই বিভাজন ও ঘৃণাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এর ফলে গণতন্ত্রের মৃত্যু হবে, তা জেনেই। ফলে তাঁরা সে পথ পরিহার করবেন, এমন আকাশকুসুম ভাবনা অবান্তর। কিন্তু উভয় দেশেই সচল গণতান্ত্রিক শক্তি রয়েছে, যারা নিজেদের মধ্যে বৃহত্তর সংহতি অর্জনের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী রাজনীতি ও নেতৃত্বের পরাজয় নিশ্চিত করতে পারে। উপরিউক্ত দুই অধ্যাপক গত শতকের তিরিশের দশকে বেলজিয়ামে ফ্যাসিবাদবিরোধী জোটের সাফল্যের উদাহরণ দিয়েছেন, ‘আমি অত দূরে নয়, বাংলাদেশে আশির দশকে ও নব্বইয়ের গোড়ায় সামরিক একনায়কতন্ত্রবিরোধী গণতান্ত্রিক মোর্চার সাফল্যের উদাহরণ দেব। অথবা আজকের চিলির রূপান্তর থেকেও আমরা অনুপ্রেরণা পেতে পারি।’

রাজনীতিকদের ব্যর্থতার ফলে হয়তো গণতন্ত্রের মৃত্যু ঘটে। কিন্তু তাকে যদি বাঁচাতে হয়, গ্যালারিতে বসে খেলা দেখা নয়, দেশের মানুষকে জামার আস্তিন গুটিয়ে মাঠে নামতে হবে। চিলিকে দেখুন, দেশের মানুষ মাঠে নেমেছে বলেই ৩৫ বছর বয়সের একজন প্রাক্তন ছাত্রনেতা এখন সেখানে পরিবর্তনের পতাকা বহনের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন।

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন