বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
কার্যকর প্রতিশ্রুতি আদায়ে প্রতিদিন রাস্তায় বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি পালন তরুণদের। ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র দেশগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থসহায়তা বৃদ্ধিরও জোর দাবি তরুণদের।

কার্বন নিঃসরণের মাত্রা বেঁধে দেওয়া, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের শিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অর্থসহায়তা প্রদান, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আনা ইত্যাদি বিষয়ে দাবি জানিয়ে আসছিলেন তরুণ পরিবেশকর্মীরা। নেতাদের কাছ থেকে কার্যকর প্রতিশ্রুতি আদায়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন রাস্তায় বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন এসব তরুণ কর্মী। কপ ২৬ সম্মেলনস্থলের বাইরে ও বিশ্বের বিভিন্ন শহরে ছিল তাঁদের সরব পদচারণ। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁরা ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও পরিবেশ নিয়ে নিজেদের উচ্চাকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন ঘটান।

পরিবেশবাদী এই কর্মীরা সম্মেলনের একেবারে শুরুর দিন থেকেই উন্নত দেশগুলোর নেতাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছিলেন, তাঁরা যেন ২০১০ সালে নির্ধারিত কার্বন নিঃসরণের মাত্রা ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেন এবং বাস্তব পদক্ষেপ নেন। জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ধনী দেশের অর্থসহায়তা বৃদ্ধিরও জোর দাবি জানাচ্ছিলেন তাঁরা।

ইতিমধ্যে শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রেটা থুনবার্গের নেতৃত্বাধীন পরিবেশবাদী আন্দোলন ‘ফ্রাইডেজ ফর ফিউচার’ (ইয়ুথ স্ট্রাইক ফর ক্লাইমেট নামেও পরিচিত) ঘোষণা করে যে তারা জীবাশ্ম জ্বালানি বিস্তার নিয়ন্ত্রণে একটি চুক্তির (ফসিল ফুয়েল নন–প্রালিফারেইশন ট্রিটি) অনুমোদন দিচ্ছে। চুক্তিটি বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনের কাছে পেশ করা হয়েছে।

কার্বন নিঃসরণ কমাতে গত বুধবার পর্যন্ত নেতাদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতি না পেয়ে তাঁরা জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে লিগ্যাল পিটিশন দাখিল করার উদ্যোগ নিয়েছেন। পিটিশনে জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে মহাসচিবের প্রতি ৩ মাত্রার জরুরি অবস্থা ঘোষণার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পরিবেশকর্মীরা জলবায়ু নিয়ে বিশ্বনেতাদের তাৎক্ষণিক ও সর্বাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয় তদারক করতে একটি টিম গঠনেও জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতি আহ্বান জানান। এ ব্যাপারে উগান্ডা থেকে আসা কর্মী ভ্যানেসা নাকাতে বলেন, ‘আমরা প্রতিশ্রুতিতে হাবুডুবু খাচ্ছি। শুধু প্রতিশ্রুতি জনদুর্ভোগ থামাবে না। একমাত্র তাৎক্ষণিক ও নাটকীয় পদক্ষেপ আমাদের বর্তমান নারকীয় অবস্থা থেকে টেনে তুলতে পারে।’

ভর্তুকি প্রশ্নে দ্বিমত

জীবাশ্ম জ্বালানিতে ভর্তুকি বন্ধে জাতিসংঘের নেওয়া সিদ্ধান্ত ঠেকাতে সৌদি আরব, চীনসহ কয়েকটি দেশ জোর চেষ্টা চালায়। দেশগুলো স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে কপ ২৬ জলবায়ু সম্মেলনে জাতিসংঘের খসড়া ঘোষণাপত্র থেকে এ-সংক্রান্ত ভাষা

ব্যবহারের বিরোধিতা করে। দেশগুলোর পক্ষ থেকে এ পদক্ষেপ যাঁরা নিচ্ছেন, তাঁদের ঘনিষ্ঠ দুজনের কাছ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এর মধ্যে চীন বিশ্বের শীর্ষ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশ। দেশটি উল্লেখযোগ্য তেল ও কয়লাও উৎপাদন করে থাকে। তেল, গ্যাস ও কয়লার জন্য ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়টি এবারের জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলনে প্রধান মূল আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। যেখানে আলোচকেরা বিশ্ব উষ্ণায়নকে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সম্মেলনের সময়সীমা অতিক্রম করে আলোচনা অব্যাহত রাখেন।

দুই সপ্তাহ ধরে চলা আলোচনায় তৈরি হওয়া চুক্তির খসড়ায় জীবাশ্ম জ্বালানির জন্য ক্ষতিগ্রস্ত

দেশ ও জনসাধারণকে আর্থিক সহায়তার বিষয়টি প্রাধান্য পায়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ এই জীবাশ্ম জ্বালানি।

যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ দূত জন কেরি গত শুক্রবার সম্মেলনে বলেন, সরকারগুলো শত শত বিলিয়ন ডলার জীবাশ্ম জ্বালানির পেছনে ব্যয় করছে। একই সময়ে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ঠেকানোর চেষ্টা করাটা যেন ‘উন্মাদনার সংজ্ঞা’।

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন তাঁর জলবায়ু নীতির কারণে দেশ ও দেশের বাইরে ব্যাপক সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছেন। সমালোচনার মুখেই স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সস্তা কিন্তু আরও টেকসই সমাধান দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন