যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ইউক্রেন-সংকট সৃষ্টি হওয়ার প্রাক্কালে শীর্ষ রুশ নেতৃত্বের মনোভাব বুঝতে পারার ক্ষেত্রে ‘বিপর্যয়কর’ ভুল করেছে। ব্রিটিশ এক পার্লামেন্টারি কমিটি গতকাল শুক্রবার তীব্র সমালোচনামূলক এক প্রতিবেদনে এই অভিমত দিয়েছে। খবর এএফপি ও বিবিসির।
ইউক্রেনের সরকারি বাহিনী এবং রুশপন্থী বিদ্রোহী বাহিনীর মধ্যকার যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়ার প্রেক্ষাপটে হাউস অব লর্ডসের ইউরোপীয় ইউনিয়ন কমিটি এ সমালোচনা করল। এ কমিটি ব্রিটিশ সরকারের ইউরোপীয় ইউনিয়ন-সংক্রান্ত নীতি পর্যালোচনা করে থাকে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য ও ইইউ ‘ঘুমের ঘোরে হেঁটে’ এ সংকটের ওপর গিয়ে পড়েছে।
ইউক্রেন সরকার, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব রুশপন্থী বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহ এবং ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর অভিযোগ করে আসছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে। তবে রাশিয়া এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
ব্রিটিশ ওই পার্লামেন্টারি কমিটির চেয়ারম্যান লর্ড ক্রিস্টোফার টাগেন্ডহাট বলেন, ‘ইইউ এবং যুক্তরাজ্য উভয়ের দিক থেকেই পর্যালোচনা করার জোরদার সক্ষমতার অভাবে সংকট সৃষ্টি হওয়ার আগের সময়ের পরিস্থিতি বুঝতে পারার ক্ষেত্রে বিপর্যয়কর ভুল হয়েছে।’
কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, মস্কোর সঙ্গে ইইউর সম্পর্কের ব্যাপারে দীর্ঘদিন থেকে ধারণা করা হতো, আরও বেশি গণতান্ত্রিক হওয়ার পথে রাশিয়া ‘প্রতিশ্রুতিশীল’।
বিশেষ করে ১৯৯৪ সালের বুদাপেস্ট স্মারকের চার স্বাক্ষরকারীর একটি হওয়ায় যুক্তরাজ্যের দায়িত্ব বেশি বলে মন্তব্য করেছে কমিটি। স্মারকে ইউক্রেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতা অক্ষুণ্ন রাখার অঙ্গীকার করা হয়েছিল।
ন্যাটোতে যুক্তরাজ্যের শীর্ষ কমান্ডার জেনারেল রিচার্ড শিরেফ ওই সংকট বিষয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রীকে ‘পররাষ্ট্রনীতিতে অবান্তর’ বলে বর্ণনা করার পর ডেভিড ক্যামেরনের প্রশাসনকে নতুন আঘাতটি করল এ প্রতিবেদন। তবে এসব সমালোচনা নাকচ করে দিয়েছে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর। দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, রাশিয়ার ওপর ইইউর কঠোর অবরোধ আরোপের মাধ্যমে এটা নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ইউক্রেনের প্রতি সমর্থনে যুক্তরাজ্য মুখ্য ভূমিকা পালন করে করেছে।
অস্ত্রবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও পূর্ব ইউক্রেনে অব্যাহত যুদ্ধের কারণে বুধবার দেশটিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনী মোতায়েনের আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেঙ্কো। রাশিয়া এর সমালোচনা করে বলেছিল, শান্তিরক্ষীদের আহ্বান জানানো মিনস্ক চুক্তি নস্যাৎ করার শামিল।
পূর্ব ইউক্রেনের সংকট নিরসনে গত সপ্তাহে বেলারুশের রাজধানী মিনস্কে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেঙ্কো, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ ও জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল দীর্ঘ বৈঠক করে যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে মতৈক্যে পৌঁছান। গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি সর্বসম্মতক্রমে অনুমোদন করা হয়। মিনস্কে আগেও এক দফা চুক্তি হলেও তা প্রায়ই বিভিন্ন মাত্রায় ভঙ্গ হচ্ছিল।

বিজ্ঞাপন
বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন