default-image

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর মধ্যাঞ্চল মারথা ও ম্যারি কনভেন্ট। সেখানকার অসচ্ছল মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করে থাকে স্থানীয় দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো। করোনা মহামারির শুরু থেকে এসব এলাকায় মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। ফলে দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও চাপ বাড়তে থাকে।

এমনই একটি প্রতিষ্ঠান মিলোসেরডি। এই প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করেন ইলিয়ানা তিমসচাক। তিনি বলেন, ‘এই মহামারি শুরুর আগে আমরা প্রতিদিন ৩০–৪০ জনকে সহযোগিতা করতাম। এখন ৫০–৬০ জনকে আমরা সাহায্য করছি।’ অনেকেই এসব প্রতিষ্ঠান থেকে খাবার পেতে দাঁড়িয়ে থাকেন। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে বাকহুইট, চিনি, চা দেওয়া হয়। এই সাহায্য নেন সাধারণত অবসরে যাওয়া প্রবীণেরা। কিন্তু এখন আরও অনেকে এই দলে যুক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সম্প্রতি চাকরি হারানো ও বেতন কমে যাওয়া ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

করোনা মহামারির আগে থেকেই রাশিয়ার অর্থনীতি একটি সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যে ছিল। কারণ, দেশটির ওপর পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ ছাড়া জ্বালানি তেলের কম দাম এবং কম বেসরকারি বিনিয়োগও এই সংকটের আরেক কারণ। এই পরিস্থিতিতে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এসেছে করোনা মহামারি। মহামারির কারণে রাশিয়ার অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, দারিদ্র্য, আয় কমে যাওয়া এবং সরকারের দৃশ্যমান কোনো সহযোগিতা না পাওয়ায় প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর অসন্তোষ এবং বিরোধীদের প্রতি জনগণের সমর্থন বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

এর প্রমাণও পাওয়া যাচ্ছে। রাশিয়ার বিরোধী নেতা ও পুতিনের কট্টর সমালোচক অ্যালেক্সি নাভালনির আহ্বানে বিভিন্ন সময়ে হাজারো মানুষ দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করেছেন। তিনি গ্রেপ্তার হওয়ার পর গত কয়েক সপ্তাহে এই বিক্ষোভ আরও বড় হয়েছে। রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচন আগামী সেপ্টেম্বরে। এই নির্বাচনের আগে আরও বড় বিক্ষোভের পরিকল্পনা করছে নাভালনির দল।

রাশিয়ার নাগরিকদের আয় গত পাঁচ বছরে বাড়েনি। উল্টো কমেছে। কিন্তু এর বিপরীতে দ্রব্যমূল্য দিনে দিনে বেড়েছে। ফলে অসন্তোস বাড়ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত ডিসেম্বরে বাজার নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দিয়েছেন পুতিন। কিন্তু এতে কাজ হয়নি।

গত বছরের জানুয়ারির তুলনায় গত জানুয়ারিতে দ্রব্যমূল্য বেড়েছে ৬৪ শতাংশ।
জনগণের ওপর এর প্রভাব কতটা পড়েছে, তা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেই বোঝা যাচ্ছে। ৬৬ বছর বয়সী স্যান্ড্রা বলেন, তিনি বাজারে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। এর পরিবর্তে তিনি দাতব্য প্রতিষ্ঠান মিলোসেরডিতে যাচ্ছেন। অবসরে যাওয়া এই প্রবীণ বলেন, ‘আপনি এখন আর কিছু কিনতে পারবেন না। আগে আমি পাখিদের জন্য খাবার কিনতে পারতাম। কিন্তু এখন শস্যদানাও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।’

default-image

রাশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে গবেষণা প্রতিষ্ঠান এফবিকে গ্র্যান্ট থর্নটনের প্রধান নীতিনির্ধারক ইগর নিকোলায়েভ বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় বর্তমান পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়। কর্তৃপক্ষের ঝুঁকি বেড়েছে। তিনি বলেন, রাশিয়ার প্রবীণদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর। কারণ, ১৯৯১ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙনের সময়ের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে তাঁদের। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে এই মুহূর্তেই কিছু একটা করতে হবে।

রাশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি জরিপ চালিয়েছে লেভাদা সেন্টার। তাদের তথ্য অনুসারে, দেশটিতে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ১৭ শতাংশ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিতে প্রস্তুত। সূত্র: এএফপি।

বিজ্ঞাপন
বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন