কিয়েভের ডিস্ট্রিক্ট আদালতের ওয়েবসাইট অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধের মামলা হওয়া ওই রুশ সেনার নাম ভাদিম শিশিমারিন। তাঁর বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধের আইন ও রীতি ভঙ্গের অভিযোগ’ আনা হয়েছে। শুক্রবার কিয়েভের আদালতে ওই সেনাকে হাজির করা হয়। এ সময় ওই সেনাকে বিমর্ষ দেখাচ্ছিল।

ইউক্রেনের প্রসিকিউটর জেনারেলের অফিস বলছে, ২১ বছর বয়সী অভিযুক্ত ওই সেনা মস্কোর কানতেমিরস্কভা ট্যাংক ডিভিশনের সদস্য। ২৮ ফেব্রুয়ারি উত্তর–পূর্ব ইউক্রেনের গ্রাম চুপাখিভকায় বেসামরিক নাগরিককে হত্যার অভিযোগে তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। অভিযোগ সম্পর্কে ওই সেনার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইউক্রেনের প্রসিকিউটর জেনারেলের অফিস এক বিবৃতিতে জানায়, রাশিয়ার সেনাদের ওপর ইউক্রেনের সেনারা হামলা চালান। এরপর অভিযুক্ত ওই সেনাসহ চার রুশ সেনা একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়ি চুরি করে পালাচ্ছিলেন। চুপাখিভকা আসার পর তাঁরা গ্রামের এক সাইকেল আরোহীকে দেখতে পান, যিনি ফোনে কথা বলছিলেন। গ্রামে রুশ সেনাদের উপস্থিতি সম্পর্কে যাতে তথ্য দিতে না পারেন, সে জন্য অভিযুক্ত সেনা গুলির নির্দেশ দেন। এরপর ঘটনাস্থলেই মাথায় গুলি করে ওই গ্রামবাসীকে হত্যা করা হয়।

তবে ওই সেনাকে কীভাবে আটক করা হয়েছে বা তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করা হয়েছে কি না, সেই বিষয়ে উল্লেখ করা হয়নি ওই অফিসের বিবৃতিতে। জানানো হয়েছে, ইউক্রেনের সিকিউরিটি সার্ভিস এ ঘটনার তদন্ত করে।

জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থার মিশেল ব্যাশেলেট গত বৃহস্পতিবার বলেন, ইউক্রেনে হামলার সময় রুশ সেনাদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অনেক যুদ্ধাপরাধের উদাহরণ থাকতে পারে।

গত ২৫ এপ্রিল আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত জানান, রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত করতে তাঁরা ইউক্রেন, পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার কৌঁসুলির সঙ্গে যৌথভাবে অংশ নেবেন।

রাশিয়া এ পর্যন্ত ইউক্রেন আক্রমণকে বিশেষ অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছে। বলেছে, রাশিয়াকে সুরক্ষা দিতেই এ অভিযান। রুশ সেনাদের বিরুদ্ধে ওঠা নির্যাতনের অভিযোগও অস্বীকার করেছে মস্কো।

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন