আগামী মে মাসে অনুষ্ঠেয় নির্বাচন সামনে রেখে দলের নীতি নিয়ে একে অপরকে তুলোধোনা করছেন ব্রিটিশ রাজনীতিকেরা। পরস্পরবিরোধী এমন নেতিবাচক প্রচারের মধ্যেই আবার তাঁরা সমঃস্বরে ঘোষণা দিয়েছেন, নির্বাচনে যে দলই সরকার গঠন করুক, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় তাঁরা একসঙ্গে কাজ করবেন।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কনজারভেটিভ দলের নেতা ডেভিড ক্যামেরন, লিবারেল ডেমোক্র্যাট (লিবডেম) দলের নেতা উপপ্রধানমন্ত্রী নিক ক্লেগ ও বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা এড মিলিব্যান্ড গত শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেন। বিবৃতিতে এই তিন নেতা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বের জন্য অন্যতম গুরুতর হুমকি।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোতে রয়েছে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার দুই সেলসিয়াসের নিচে রাখতে চলতি বছরের ডিসেম্বরে প্যারিসে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে একটি বৈশ্বিক জলবায়ু চুক্তি সইয়ের কাজ করা। জলবায়ু পরিবর্তন আইনের (ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যাক্ট) সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কার্বন বাজেট ঠিক করা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, শক্তি-সাশ্রয়ী নিম্ন কার্বন অর্থনীতিতে রূপান্তরের কাজ ত্বরান্বিত করা। একই সঙ্গে প্রচলিত উচ্চদূষণসম্পন্ন কয়লা জ্বালানির ইতি ঘটানো।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, হালে আলোচনায় আসা কট্টর জাতীয়তাবাদী দল ইউকে ইনডিপেন্ডেন্ট পার্টির (ইউকিপ) হুমকি মোকাবিলায় কনজারভেটিভ দল জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত অবস্থান থেকে সরে আসবে বলে যে আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছিল, এই বিবৃতি ‘ইউরোপিয়ান পার্টনারদের’ সেই আশঙ্কা দূর করেছে। পাশাপাশি যাঁরা সবুজ জ্বালানিতে বিনিয়োগে আগ্রহী, তাঁরাও আশ্বস্ত হয়েছেন। উল্লেখ্য, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের বরাদ্দকে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় বলে মনে করে ইউকিপ।

এর আগে যুক্তরাজ্যভিত্তিক এইচএসবিসি (হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং কর্পোরেশন) ব্যাংকের গ্রাহকদের কর ফাঁকি ফাঁস হওয়ার ঘটনা যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়ায়। কেননা, যে মেয়াদে (২০০৫-০৭) কর ফাঁকির ঘটনা ঘটেছে, তখন ব্যাংকটির প্রধান নির্বাহী ও চেয়ারম্যান ছিলেন ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের বর্তমান লর্ড স্টিফেন গ্রিন। ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি দলটির মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে কর ফাঁকিতে এমন সব ব্যক্তির নাম রয়েছে, যাঁরা কনজারভেটিভ দলের বড় অঙ্কের তহবিল জোগানদাতা (ডোনার)।

বিরোধীদলীয় নেতা এড মিলিব্যান্ড বলেন, করফাঁকিবাজদের অর্থে চলা ডেভিড ক্যামেরন একজন ‘ধোঁকাবাজ’ প্রধানমন্ত্রী। কর ফাঁকির কারণে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে প্রায় ৩৪ বিলিয়ন পাউন্ডের ঘাটতি তৈরি হয়েছে দাবি করে করে তিনি বলেন, ধনীরা বিদেশে অ্যাকাউন্ট খুলে কর ফাঁকি দেবে, এমনটি চলতে পারে না। লেবার পার্টি ক্ষমতায় এলে কর ফাঁকিরোধে ছয় মাসের মধ্যে অন্য দেশে থাকা অ্যাকাউন্টের (অফশোর অ্যাকাউন্ট) জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজস্ব বিভাগকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

অন্যদিকে ডেভিড ক্যামেরন পাল্টা আক্রমণ করে বলেছেন, গত লেবার সরকারের আমলেই ওই কর ফাঁকির ঘটনা ঘটছে। ফলে এর দায়ভার তাদের।

বিজ্ঞাপন
বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন