বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আইআইইডির প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু সংকট, তীব্র বন্যা, খরা, দাবানলসহ চরম আবহাওয়ার বিপর্যয়ের ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতি দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাসকারী মানুষের জীবনযাত্রার ওপর বিধ্বংসী প্রভাব ফেলছে এবং তাঁদের আরও বেশি দাসত্বের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে।

আইআইইডি ও অ্যান্টি–স্লেভারি ইন্টারন্যাশনালের গবেষকেরা বলেন, উত্তর ঘানায় তীব্র খরার কারণে তরুণ জনগোষ্ঠী শহরের দিকে চলে এসেছে। কুলির কাজ করা অনেক নারী পাচার, যৌন নিপীড়ন ও দেনার বন্ধকির শিকার হতে পারে। দেনার বন্ধকি আধুনিক দাসত্বের একটি রূপ, যেখানে বিপুল দেনা শোধ করার জন্য কর্মীকে কাজের চক্রে বেঁধে রাখা হয়।

ঘানা থেকে আক্রায় চলে আসা এক নারী বলেন, বন্যায় জমি নষ্ট হওয়ার আগপর্যন্ত তিনি কৃষিকাজ করতেন। এরপর সাত বছর ধরে তিনি কুলি (কায়ায়ি) হিসেবে কাজ করছেন। তিনি মাথায় করে বিভিন্ন পণ্য বহন করে। ওই নারী বলেন, মাথায় করে পণ্য বহন করা তাঁর জন্য সহজ কাজ ছিল না। তিনি যখন ঘানায় আসেন, তখন এ কাজ সম্পর্কে জানতেন না। পরে একজন তাঁকে পাত্র, খাবার ও থাকার জায়গা দেন। এর বদলে তাঁর সব উপার্জন নিয়ে নেন। তাঁকে একবার এক গ্রাহকের পণ্য তাঁর কাছ থেকে পড়ে ভেঙে যাওয়ার ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছিল।

গার্ডিয়ান–এর প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সুন্দরবনের সীমান্ত এলাকার কথাও বলা হয়েছে। সেখানে কয়েকটি ঘূর্ণিঝড়ে সৃষ্ট বন্যার ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। গবেষকেরা দেখেছেন, দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে চোরাচালানকারী এবং পাচারকারীরা কর্মসংস্থান ও আয়ের লোভ দেখিয়ে বিধবা এবং সীমান্ত অতিক্রম করতে মরিয়া ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। পাচার করা লোকজনকে তাঁরা জোর করে কাজ করাতে বা বাধ্যতামূলক যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করায়।

জলবায়ু পরিবর্তন এবং অ্যান্টি–স্লেভারি ইন্টারন্যাশনালের আধুনিক দাসত্ববিষয়ক বিশেষজ্ঞ ফ্রান উইট বলেন, ‘আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু সংকটের প্রভাব লাখো মানুষের ওপর পড়ছে। চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি পরিবেশ ধবংস, মানুষকে ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য করার পাশাপাশি পাচারের ঝুঁকি ও দাসত্বের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।’
বিশ্বব্যাংকের অনুমান অনুযায়ী ২০৫০ সাল নাগাদ জলবায়ু সংকটের প্রভাব যেমন ফসলহানি, পানির অভাব এবং সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধিতে আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া, লাতিন আমেরিকার ৬টি অঞ্চলে ২ কোটি ১৬ লাখ মানুষকে ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য করবে।

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন