default-image

পূর্ব লাদাখে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আট মাস পর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে ভারত ও চীন দুই দেশই সেনা সরাতে সম্মত হলো। দুই দেশের সমঝোতার মধ্য দিয়ে সেই কাজ শুরুও হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং আজ বৃহস্পতিবার ভারতের পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে এই কথা জানিয়েছেন।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, দীর্ঘ আলোচনা প্রক্রিয়ায় ভারত কোনো আপস করেনি। এক ইঞ্চি জমিও ছাড়েনি।

গত বছরের জুন মাসে পূর্ব লাদাখের গলওয়ানের একাধিক জায়গায় ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে লড়াই হয়। সেই সংঘর্ষে দুই দেশের বহু জওয়ান হতাহত হন। দুই দেশের মধ্যস্থতায় সংঘর্ষ থামলেও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে দুই তরফেই। সেই থেকে দুই দেশই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় সেনা উপস্থিতি বাড়িয়ে দেয়।

বিজ্ঞাপন

উত্তেজনা প্রশমন ও স্থিতাবস্থা ফেরাতে আট মাস ধরে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক হয়। আলোচনা হয় দুই দেশের সরকারের মধ্যেও। অবশেষে রাজনাথ সিং বরফ গলার কথা শোনান। আজ প্রথমে রাজ্যসভা ও পরে লোকসভায় দুই দেশের বোঝাপড়ার কথা জানিয়ে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাঁরা সদা সক্রিয়।

আগামী কয়েক দিনে পর্যায়ক্রমে ভারত ও চীন তাদের বর্তমান অবস্থান থেকে স্বীকৃত স্থানে সরে যাবে। প্যাংগং লেকের ‘ফিঙ্গার ২ ও ৩’-এর মধ্যবর্তী ধন সিং থাপা ঘাঁটিতে ফিরে যাবে ভারতীয় সেনা, চীনা ফৌজ সরে যাবে ‘ফিঙ্গার ৮’-এর পূর্ব দিকে। একইভাবে দুই বাহিনী পিছু হটবে প্যাংগং লেকের দক্ষিণ তীরেও। রাজনাথ সিং বলেন, বোঝাপড়ায় ঠিক হয়েছে, ২০২০ সালে এপ্রিল মাস থেকে প্যাংগংয়ের উত্তর ও দক্ষিণ তীরে যেসব সামরিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে, দুই দেশই তা ভেঙে দেবে। হ্রদের উত্তর তীরে সামরিক তৎপরতা দুই দেশই বন্ধ রাখতে স্বীকৃত হয়েছে। এমনকি, টহলদারিও আপাতত বন্ধ থাকবে।

পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর আরও কিছু জায়গা ঘিরে দুই দেশের মতপার্থক্য রয়েছে। সেসব বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘চীনের অন্যায় দাবি ভারত কোনো দিন মানেনি। মানবেও না। এক ইঞ্চি জমিও কারও কাছে ছাড়বে না। পাকিস্তান অন্যায়ভাবে ভারতের জমি চীনকে দিয়েছে। আমরা তা মানি না। চীনও ভারতের বহু জমির দাবিদার। সেই দাবিও আমরা স্বীকার করি না।

রাজ্যসভায় রাজনাথের বিবৃতির পরই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এক টুইটে বলেন, ‘স্থিতাবস্থায় না ফেরার অর্থ শান্তি না আসা। আমাদের জওয়ানদের আত্মত্যাগকে অসম্মান করে সরকার কেন জমি ছেড়ে দিচ্ছে?’

বিজ্ঞাপন
বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন