default-image

মালয়েশিয়ার এয়ারএশিয়া বিমান সংস্থার ফ্লাইট কিউজেড-৮৫০১ গতকাল রোববার নিখোঁজ হওয়ার পর অনেকেই নিশ্চয়ই উড়োজাহাজে ভ্রমণ করার আগে আরেকবার চিন্তা করে নিচ্ছেন। সেটা খুব অস্বাভাবিক নয়। কারণ, এ বছর মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের আলোচিত বিপর্যয়সহ এরই মধ্যে বড় চারটি বিমান দুর্ঘটনায় ৭০১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এয়ারএশিয়ার উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হলে সংখ্যাটা হবে ৮৬২।
তবে পরিসংখ্যান বলছে, এর পরও বিমান দুর্ঘটনার প্রশ্নে ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ বছর এটি নয়। ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ বছরটি ছিল ১৯৭২ সাল। ওই বছর বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল দুই হাজার ৪২৯-এ।
ইউরোপের বিমান নিরাপত্তা সংস্থার হিসেব মতে, ২০১৩ সালে বিমান দুর্ঘটনায় মাত্র ২২৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল। অথচ ২০০৩ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত এমন দুর্ঘটনায় গড়ে প্রতিবছর ৭০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। অবশ্য, একই সংস্থার আরেকটি প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১১ সালের পর থেকেই বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণহানির হার কমতে শুরু করে। ওই বছর থেকে ২০১৪ সালের আগ পর্যন্ত বছরে গড়ে ৪০০ জনেরও কম মানুষ এ বিপর্যয়ে মারা গেছে।
আকাশপথের নিরাপত্তা নিয়ে ‘ককপিট কনফিডেনশিয়াল’ নামের বইয়ের লেখক পাইলট প্যাট্রিক স্মিথ মনে করছেন, ২০১৪ সালে বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর এই হার ‘খুবই স্বাভাবিক’। তিনি বলেন, ‘বিমান দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যহারে কমছে। প্রতি মাইল ওড়ার হিসেবে মৃত্যুর হারও কমেছে। দেখা যাচ্ছে, উড়োজাহাজ চলাচলের সংখ্যা বাড়ছেই। তাই আমরা বেশি বেশি দুর্ঘটনা দেখব, এটাই স্বাভাবিক।’
গতকালের ঘটনার আগ পর্যন্ত ২০১৪ সাল বড় বিমান দুর্ঘটনা দেখেছে চারটি। এর মধ্যে দুটিই মালয়েশিয়ার উড়োজাহাজ। অন্য দুটির একটি তাইওয়ানের এবং অপরটি আলজেরিয়ার।
মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৩৭০: কুয়ালালামপুর থেকে চীনের বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হওয়া ফ্লাইটটি ৮ মার্চ রাতে ২৩৯ আরোহী নিয়ে নিখোঁজ হয়। এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া ও মালয়েশিয়ার জাহাজগুলো ভারত মহাসাগরের দক্ষিণাংশে শত শত মাইলজুড়ে এর ধ্বংসাবশেষের জন্য তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ১৭: ইউক্রেনের সংঘাতময় পূর্বাঞ্চলে ১৭ জুলাই উড়োজাহাজটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়। মারা যায় এর ২৮৩ আরোহীর সবাই। গুলি করে বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় এটাই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা।
ট্র্যান্সএশিয়া এয়ারওয়েজ ফ্লাইট ২২২: ২৩ জুলাই খারাপ আবহাওয়ার কারণে জরুরি অবতরণের সময় তাইওয়ানে কয়েকটি ভবনের ওপর ভেঙে পড়ে উড়োজাহাজটি। এর ৫৮ আরোহীর মধ্যে ১০ জন প্রাণে বেঁচে যায়।
এয়ার আলজেরিয়া ফ্লাইট ৫০১৭: ২৪ জুলাই বুরকিনা ফাসো থেকে আলজেরিয়ায় যাওয়ার পথে মালিতে অজানা কারণে বিধ্বস্ত হয়। এতে ১১৬ আরোহীর সবার মৃত্যু হয়।
নেপাল এয়ারলাইনস ফ্লাইট ১৮৩: খারাপ আবহাওয়ার কারণে নেপালের ধিকুড়া জঙ্গল এলাকার একটি পাহাড়ে ১৬ ফেব্রুয়ারি বিধ্বস্ত হয়। মারা যায় এর ১৮ আরোহীর সবাই।
সেপাহান এয়ারলাইনস ফ্লাইট ৫৯১৫: ইরানের তেহরানের মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ১০ আগস্ট উড্ডয়নের পরপরই একটি আবাসিক এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। যান্ত্রিক গোলযোগজনিত এ দুর্ঘটনায় ৪৮ আরোহীর মধ্যে ৩৯ জনেরই মৃত্যু হয়।
সূত্র: ইপোক টাইমস, ইন্ডিয়া ডটকম।

বিজ্ঞাপন
বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন