default-image

‘আমার মতো সামাজিক যোগাযোগে সক্ষম রোবটরা অসুস্থ ও প্রবীণদের সেবা দিতে পারে। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও আমি যোগাযোগে সহযোগিতা করতে পারি, রোগীকে ওষুধ দিতে পারি।’ কথাগুলো রোবট সোফিয়ার। হংকংয়ের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হ্যানসন রোবটিকসের গবেষণাগারে সে এসব কথা বলেছে। এর মাধ্যমে রোবটটি ইঙ্গিত দিয়েছে, শিগগির সে কাজে নেমে পড়বে, সেবা দেবে মানুষকে।

রোবট সোফিয়ার কথা হয়তো অনেকেরই মনে আছে। কথা বলে, নানা অভিব্যক্তি প্রকাশ করে এই রোবট বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলে দিয়েছিল। বিভিন্ন দেশে ভ্রমণও করেছে রোবটটি।

২০১৬ সালে সোফিয়াকে তৈরি করা হয়। রোবটটির উদ্ভাবক প্রতিষ্ঠান হ্যানসন রোবটিকস। প্রতিষ্ঠানটি ঘোষণা দিয়েছে, ২০২১ সালের প্রথম ভাগেই সোফিয়াসহ তাদের উদ্ভাবিত চারটি রোবট বিভিন্ন জায়গায় কাজ শুরু করবে। আর বছরের শেষ নাগাদ এ ধরনের রোবট ব্যাপক হারে তৈরির পরিকল্পনাও করছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিজ্ঞাপন

এমনটা যে ঘটতে পারে, তা আগেই ধারণা করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলেছিলেন, করোনাভাইরাসের মহামারি রোবট প্রযুক্তির জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রোবটিকসের এক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০১৮ ও ২০১৯ সালের মধ্যবর্তী সময়ে পেশাদার কাজে সহযোগিতায় সক্ষম রোবটের বিক্রি বিশ্বজুড়ে ৩২ শতাংশ বেড়েছে। আর ২০২০ সালে মহামারির সময় এ ধরনের রোবটের ব্যবহার আরও বেড়েছে।

সোফিয়ার উদ্ভাবক এবং হ্যানসন রোবটিকসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ডেভিড হ্যানসন বলেন, করোনা মহামারির এই সময়ে মানুষকে নিরাপদ রাখতে আরও বেশি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, মহামারির এই সময়ে রোবট কেবল স্বাস্থ্যসেবাই দেবে না, খুচরা পণ্য বিক্রির দোকান, এয়ারলাইনসের কাজে সহযোগিতা করতে পারে।

ডেভিড হ্যানসন বলেন, সোফিয়া এবং হ্যানসন রোবটিকসের অন্য রোবটগুলো অনেকটাই মানুষের মতো। এ কারণেই তারা অনন্য। মহামারির এ সময়ে মানুষ একাকী হয়ে পড়েছে, প্রিয়জনদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ কঠিন পরিস্থিতিতে এসব রোবট কাজে আসতে পারে। তিনি জানান, চলতি বছরে তিনি ছোট–বড় অনেকগুলো রোবট বিক্রির পরিকল্পনা করেছেন। তবে সেই সংখ্যা কত, তা তিনি জানাননি।

সোফিয়ার উদ্ভাবনে গবেষণায় সংশ্লিষ্ট ছিলেন হংকং পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটির সোশ্যাল রোবটিকসের অধ্যাপক জোহান হুর্ন। তিনি বলেন, সোফিয়াকে যে প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে, তা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তারপরও মহামারির এ সময়টায় তাঁরা দ্রুত কাজ করছেন, যাতে এ ধরনের রোবট শিগগির বাজারে আনা যায়।

আর হ্যানসন রোবটিকসের গবেষণাগারে কথোপকথনের সময় সোফিয়া বলেছে, কিছু মানুষ হয়তো স্বাস্থ্যসেবার মতো স্পর্শকাতর কাজে রোবটকে নিযুক্ত করতে ভয় পায়। এরপরই তাকে একজন প্রশ্ন করেন, মানুষের কি রোবটকে ভয় পাওয়া উচিত? বিজ্ঞের মতো সোফিয়ার তাৎক্ষণিক জবাব ছিল, ‘কেউ একজন বলেছেন, আমাদের ভয় ছাড়া ভয় পাওয়ার কিছু নেই।’

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন