default-image

ইয়েমেনের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বিবেচনা করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করে দিল ইতালি। গতকাল শুক্রবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ইতালির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। খবর আল–জাজিরার।
গত সপ্তাহে এই দুই দেশের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর এমন সিদ্ধান্তের কথা জানাল ইতালি।
ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের দমনে দেশটির সরকারি বাহিনীর সঙ্গে কাজ করছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট। ২০১৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত আড়াই লাখের বেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে জাতিসংঘ বেশ কয়েকবার সতর্কবার্তা দিয়েছে। তারা বলেছে, এই মানবিক সংকট আরও গুরুতর রূপ নিয়েছে। এসব পরিস্থিতি বিবেচনা করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে হাজারো ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে ইতালি।

বিজ্ঞাপন

এ প্রসঙ্গে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী লুই দি মাইয়ো শুক্রবার বলেন, ‘আমি ঘোষণা দিচ্ছি, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র ও উড়োজাহাজ থেকে নিক্ষেপিত বোমা রপ্তানির যে প্রক্রিয়া চলমান, তা স্থগিত করেছে সরকার।’ তিনি বলেন, ‘এরই মধ্য দিয়ে আমরা শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিষ্কার বার্তা দিচ্ছি।’ মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আমাদের যে প্রতিশ্রুতি, তার প্রতি সম্মান দেখাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে অস্ত্র বিক্রি স্থগিতের প্রথম ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল ২০১৯ সালে। ওই ঘোষণা দেওয়ার সময় লুই দি মাইয়ো ইয়েমের কথা উল্লেখ করেননি।

ইতালি যেসব দেশের কাছে বেশি অস্ত্র বিক্রি করে, তাদের তালিকায় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থান ১০ ও ১১ নম্বরে। এরপরও সরকার অস্ত্র বিক্রি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ইতালির পিস অ্যান্ড ডিসআরমামেন্ট নেটওয়ার্ক। তারা বলেছে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত ঐতিহাসিক। এক পরিসংখ্যানে তারা জানিয়েছে, সরকারের এমন সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ১৩ হাজার ফরমাশ বাতিল হয়ে যাবে।

বিজ্ঞাপন
বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন