নিজামীর ফাঁসির দণ্ডাদেশের প্রতিক্রিয়া

হাসিনাকে চাপ দিতে আহ্বান পাকিস্তান জামায়াতের

বিজ্ঞাপন
default-image

১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীসহ ১৪ জনকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেওয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামি। এই দণ্ড ঠেকাতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পাকিস্তান ও অন্য সব মুসলিম দেশগুলোর হস্তক্ষেপ চেয়েছে দলটি।
পাকিস্তানের দ্য নেশন ও দুনিয়া নিউজের অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিবৃতিতে পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামির প্রধান সৈয়দ মুনাওয়ার হাসান এ আহ্বান জানান।
ওই বিবৃতির বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিজামী ও অপর ১৩ জনের ফাঁসির দণ্ডাদেশকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক অভিহিত করে তা প্রত্যাখ্যান ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সৈয়দ মুনাওয়ার।
নিজামীর বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলাকে মিথ্যা বলে দাবি করেন পাকিস্তান জামায়াতের প্রধান। এই মামলার পেছনে ভারতের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। তিনি দাবি করেন, নিজামীর মতো মানুষের বিরুদ্ধে কোনো সুস্থ মানুষ অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগ আনতে পারে না।
এই ঘটনাকে ‘জুলুম’ বলে অভিহিত করে তা বন্ধে সহায়তা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন বন্ধে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পাকিস্তান সরকার ও অন্য সব মুসলিম দেশের শাসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সৈয়দ মুনাওয়ার হাসান।

পাকিস্তান জামায়াতের প্রধান দাবি করেন, বাংলাদেশের মানুষ ইতিমধ্যে আদালতের দেওয়া রায় প্রত্যাখ্যান করেছে।  এ ছাড়া বাংলাদেশের ওপর ভারতের প্রভাব বাড়তে থাকায় দেশটির মানুষ গভীর উদ্বেগে রয়েছে।

১০ ট্রাক অস্ত্র আটকের ঘটনায় করা দুটি মামলার রায় গত ৩০ জানুয়ারি ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে একটি মামলায় সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আবদুর রহীম, ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়াসহ ১৪ জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালত এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক এস এম মজিবুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

চোরাচালানের মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ৫২ আসামির মধ্যে ১৪ জনকে এই সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়। বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা এই মামলায় একই সঙ্গে এঁদের পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়। আর অস্ত্র আইনে করা মামলায় এই ১৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল সিইউএফএল ঘাট থেকে আটক করা হয় ১০ ট্রাকভর্তি অস্ত্রের চালান। এ নিয়ে কর্ণফুলী থানায় ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন ও ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে চোরাচালানের অভিযোগে দুটি মামলা হয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন