default-image

ইথিওপিয়ার সেনাপ্রধান, গোয়েন্দাপ্রধান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের অফিস গতকাল রোববার তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার আদেশ দেয়। দেশটির উত্তরের তাইগ্রে অঞ্চল নিয়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর এমন সিদ্ধান্ত এল। সেখানে এখনো সংঘর্ষ চলছে। বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে তিনটি বড় পদে পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হলেও কারণ জানানো হয়নি।

দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল, যা গত বুধবার সংঘর্ষে রূপ নেয়।

বিজ্ঞাপন

সেখানে এক ডজনের বেশি হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির বিমানবাহিনী তাইগ্রে অঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশটিতে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

জাতিসংঘ বলছে, আটটি বিভিন্ন এলাকায় তাইগ্রেরিয়ান সেনা ও ফেডারেল সেনাবাহিনীর মধ্যে লড়াই চলছে। এ লড়াইয়ে ৯০ লাখ মানুষের স্থানচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাইগ্রে অঞ্চলে যোগাযোগের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেখানে সাহায্য পৌঁছানো যাচ্ছে না।

ইথিওপিয়ায় পার্লামেন্টের এক জরুরি সভা শেষে সেনাপ্রধান, গোয়েন্দাপ্রধান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পার্লামেন্টে জরুরি সভায় তাইগ্রে সরকার ভেঙে দেওয়ার পক্ষে ভোট পড়ে। বলা হচ্ছে, তাইগ্রে সংবিধান লঙ্ঘন করেছে এবং সাংবিধানিক পদ্ধতিকে সংকটে ফেলেছে।

তাইগ্রের নেতা ডেব্রেটসিয়ন জেরবাইমাইকেল এর আগে আবির প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওই রাজ্যে আক্রমণ করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছিলেন। তিনি আফ্রিকান ইউনিয়নকে হস্তক্ষেপ করে গৃহযুদ্ধ ঠেকানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ফেডারেল সরকার যতক্ষণ না পর্যন্ত আলোচনায় সম্মত না হবে, ততক্ষণ তাইগ্রে প্রতিরক্ষা চালিয়ে যাবে।

গত বুধবার ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ দেশটির তাইগ্রে অঞ্চলের সামরিক লক্ষ্যবস্তুর ওপর বিমান হামলা চালানোর কথা বলেন। তিনি বলেন, সাবেক ক্ষমতাসীন জোটের শরিকদের বিরুদ্ধে এ হামলা হয়েছে। ওই অঞ্চলে দেশটির মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।

২০১৮ সালে আবি ক্ষমতায় আসার আগ পর্যন্ত তাইগ্রের নেতারা ইথিওপিয়ায় আধিপত্য দেখাতেন। আবি ক্ষমতায় আসার পর তাঁদের প্রভাব কমানোর চেষ্টা করেন। তবে তাইগ্রের নেতাদের অভিযোগ, তাঁদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হচ্ছে। আবি আহমেদ অবৈধ নেতা। তাঁর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। করোনাভাইরাসের কারণে নির্বাচন বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি। তাইগ্রের ক্ষমতাসীন তাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ) গত সেপ্টেম্বর থেকে এ নিয়ে আন্দোলন করছে।

গত বছর আবি আহমেদ ক্ষমতাসীন জোট সরকার বিলুপ্ত ঘোষণা করার পর থেকে অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে। ওই জোট বিভিন্ন আঞ্চলিক সংখ্যালঘু দলের সমন্বয়ে গঠিত ছিল। আবি তাদের একত্র করে প্রসপারিটি পার্টি নামে একক দল গঠন করেন। কিন্তু তাতে টিপিএলএল যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

২০১৯ সালে শান্তিতে নোবেল জয়ী আবি আহমেদ গতকাল রোববার ইথিওপিয়াবাসীর কাছে তাইগ্রের মানুষকে বৈষম্য না দেখানোর আহ্বান জানান। দেশটির ১০ কোটি জনসংখ্যার ৬ শতাংশ তাইগ্রে জনগোষ্ঠীর।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0