default-image

পূর্ব আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ায় বিদ্রোহীদের আক্রমণে কমপক্ষে ৫৪ জন নিহত হয়েছেন। গত রোববার এ ঘটনা ঘটেছে বলে মানবাধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে। যুক্তরাজ্যের দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইথিওপিয়ার অরোমিয়া অঞ্চলের গাওয়া কোয়ানকা গ্রামের একটি স্কুলের মাঠে ৫৪ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে। এ হামলার জন্য ওই অঞ্চলের বিদ্রোহী গ্রুপ অরমো লিবারেশন আর্মিকে (ওএলএ) সন্দেহ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় বেঁচে যাওয়া লোকজন বলছেন, ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের অধিকাংশই নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা।

বিজ্ঞাপন

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ হামলার ঘটনায় গত বছরে শান্তিতে নোবেল জয়ী ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের ওপর নিরাপত্তা বাড়ানোর চাপ বাড়বে। দেশটিতে জাতিগত সহিংসতা বাড়ছে।

ইথিওপিয়া মানবাধিকার কমিশন (ইএইচআরসি) জানিয়েছে, পশ্চিম ইথিওপিয়ার ওল্লেগা নামে পরিচিত অঞ্চলে ৬০ জন সশস্ত্র হামলাকারী সহিংসতায় জড়িত ছিল। তারা ইথিওপিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম নৃগোষ্ঠী আমহারার লোকজন। বাড়ি থেকে লোকজনকে ধরে নিয়ে স্কুলমাঠে জড়ো করা হয়। সেখানেই তাঁদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়।

ইএইচআরসি জানিয়েছে, সরকারি গণনা অনুযায়ী ৩২ জন সাধারণ মানুষ মারা গেছেন। তবে ইএইচআরসির হিসাবে মৃত্যুসংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। গতকাল সোমবার অরোমিয়ার আঞ্চলিক সরকারের তরফে বলা হয়, ওএলএর দুর্বৃত্তরা এ হামলার জন্য দায়ী। তারা পশ্চিম ও দক্ষিণ ইথিওপিয়ায় বোমা হামলা, অপহরণের মতো কাজে জড়িত থাকে।

ওই ঘটনায় বেঁচে যাওয়া এক ব্যক্তি বলেন, ‘ওই অঞ্চলে সরকারি নিরাপত্তা বাহিনী হঠাৎ অবস্থান নেয়। এরপর তারা চলে গেলে ওএলএর পক্ষ থেকে গ্রামবাসীকে জড়ো করা হয় এবং নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। কমপক্ষে ৫০ জনের লাশ দেখেছি। অনেকে আহত হয়েছেন। তারা লুটপাট চালায় এবং ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়।’

ওই এলাকা থেকে নিরাপত্তা বাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি। কমিশনের চেয়ারম্যান ড্যানিয়েল বিকেল বলেন, নাগরিকদের এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড মানবতার মৌলিক নীতির লঙ্ঘন। বর্বরতার জন্য কোনো ঘৃণাই যথেষ্ট নয়। তাদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী আবি বলেছেন, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ওই অঞ্চলে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

মন্তব্য পড়ুন 0