default-image

আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলের তাইগ্রেতে আঞ্চলিক সরকারের বাহিনীর সঙ্গে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের বাহিনীর সংঘর্ষ চলছে। এর জের ধরে দেশটির সর্ব উত্তরে তাইগ্রে অঞ্চলের পার্শ্ববর্তী আমহারা রাজ্যের দুটি বিমানবন্দরে রকেট হামলা চালানো হয়েছে। এর একটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। শুক্রবার এ ঘটনা ঘটে বলে দেশটির সরকার জানায়।

আমহারা রাজ্যের গোনদার বিমানবন্দরে এবং বাহিরদার বিমানবন্দর লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছিল। পরে বিমানবন্দর দুটি থেকে সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
গোনদারের মধ্যাঞ্চলের মুখপাত্র আওকি ওরুকু বলেন, গোনদার বিমানবন্দরে একটি রকেট আঘাত হানে। এতে বিমানবন্দরটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে বাহির দার বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে চালানো রকেটটি বিমানবন্দরের বাইরে গিয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

গোনদার এলাকার একজন বাসিন্দা বলেন, স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি বিকট শব্দ শুনতে পান। অপর এক বাসিন্দা বলেন, রকেট হামলায় বিমানবন্দর টার্মিনাল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার পরপরই ওই এলাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি বাইরে দেখা গেছে।

ক্ষমতাসীন তাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ) জানিয়েছে, তাইগ্রে প্রতিরক্ষা বাহিনী বাহিরদার ও গোনদারে সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সরকারি বাহিনীর আক্রমণের জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।
টিপিএলএফের মুখপাত্র গেতাচিও রেদা রাজ্যের যোগাযোগবিষয়ক দপ্তরের ফেসবুক পেজে বলেছেন, যত দিন না তাইগ্রের লোকজনের ওপর হামলা বন্ধ হচ্ছে, তত দিন কড়া পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।

default-image

তাইগ্রে অঞ্চলে সরকারি বাহিনীর ওপর স্থানীয় বাহিনীগুলোর হামলার অভিযোগ উঠলে গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ সেখানে জাতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী পাঠান।

প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারি যুদ্ধবিমান থেকে তাইগ্রেতে সামরিক আস্তানায় বিশেষ করে অস্ত্রের ভান্ডারকে লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালানো হয়েছে। সরকারের উদ্দেশ্য হলো ৫০ লাখ মানুষের পার্বত্য এই রাজ্যটিতে আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা।
দেশটির অন্যান্য অঞ্চলে এ লড়াই ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে জাতিসংঘ, আফ্রিকান ইউনিয়নসহ অন্যরা আশঙ্কা করছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানায়, এরই মধ্যে সাড়ে ১৪ হাজারের বেশি মানুষ সুদানে পালিয়ে গেছেন।

ইথিওপিয়ার মানবাধিকার কমিশন তাইগ্রের মাই কাদরা এলাকায় প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, সেখানে গণহত্যার প্রমাণ তারা পেয়েছে। তবে সরকার গণহত্যার এ দায় অস্বীকার করেছে।

গত বুধবার ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি তাইগ্রে অঞ্চলের সামরিক লক্ষ্যবস্তুর ওপর বিমান হামলা চালানোর কথা বলেন। তিনি বলেন, সাবেক ক্ষমতাসীন জোটের শরিকদের বিরুদ্ধে এ হামলা হয়েছে। ওই অঞ্চলে দেশটির মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।

গোনদার বিমানবন্দরে একটি রকেট আঘাত হানে। এতে বিমানবন্দরটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে বাহির দার বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে চালানো রকেটটি বিমানবন্দরের বাইরে গিয়ে পড়ে

২০১৮ সালে আবি ক্ষমতায় আসার আগপর্যন্ত তাইগ্রের নেতারা ইথিওপিয়ায় আধিপত্য দেখাতেন। আবি ক্ষমতায় আসার পর তাঁদের প্রভাব কমানোর চেষ্টা করেন। তবে তাইগ্রের নেতাদের অভিযোগ, তাঁদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হচ্ছে। আবি আহমেদ অবৈধ নেতা। তাঁর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। করোনাভাইরাসের কারণে নির্বাচন বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি। তাইগ্রের ক্ষমতাসীন তাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ) গত সেপ্টেম্বর থেকে এ নিয়ে আন্দোলন করছে।

২০১৯ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী আবি আহমেদ গত রোববার ইথিওপিয়াবাসীর কাছে তাইগ্রের মানুষকে বৈষম্য না দেখানোর আহ্বান জানান। দেশটির ১০ কোটি জনসংখ্যার ৬ শতাংশ তাইগ্রে জনগোষ্ঠীর।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0