default-image

ইথিওপিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে গত মঙ্গলবার সশস্ত্র হামলার এক ঘটনায় শিশুসহ ৮০ জনের বেশি বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন। দেশটির জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (ইএইচআরসি) এ তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে ইথিওপিয়ার সরকার বলেছে, সংঘাতকবলিত তাইগ্রে অঞ্চলের সাবেক ক্ষমতাসীন দলের তিন সদস্যকে হত্যা করেছে সেনাবাহিনী। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেয়ম মেসফিনও। খবর আল–জাজিরার।

মঙ্গলবারের হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের একজন আহমেদ ইয়ামাম গতকাল বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, তিনি ৮২ জনের লাশ গুনেছেন। হামলায় আহত হয়েছেন আরও ২২ জন। হামলাকারীরা প্রধানত ছুরি ও তির নিয়ে হামলা চালায়। ব্যবহার করা হয় আগ্নেয়াস্ত্রও। হামলাকারীরা বাড়িঘরও জ্বালিয়ে দিয়েছে।

ইএইচআরসির মুখপাত্র ও জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা অ্যারন ম্যাশো বলেন, সুদান ও দক্ষিণ সুদানের সঙ্গে সীমান্তবর্তী ইথিওপিয়ার বেনিসাংগুল–গুমুজ এলাকায় মঙ্গলবার ভোর পাঁচটা থেকে সকাল সাতটার মধ্যে এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়।

বিজ্ঞাপন

রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে অ্যারন ম্যাশো আরও বলেন, ‘আমরা ৮০ জনের বেশি নিহত হওয়ার তথ্য পেয়েছি। তাঁদের মধ্যে ৪৫ বছর বয়সী মানুষ থেকে শুরু করে ২ বছরের শিশুও রয়েছে।’ তিনি বলেন, হামলার দায়দায়িত্ব কেউ স্বীকার করেনি। হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কেও তাৎক্ষণিক কিছু জানা যায়নি। এখন পর্যন্ত কোনো হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

পশ্চিমাঞ্চলীয় বেনিসাংগুল-গুমুজের ড্যালেট্টি এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এখানে সহিংসতায় কয়েক শ মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৩ ডিসেম্বর একটি হামলাতেই ২০৭ জন নিহত হন। ম্যাশো বলেন, অব্যাহতভাবে চলা সহিংসতায় এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ ওই অঞ্চলে সহিংসতার অবসান ঘটাতে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ফেরাতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর অংশ হিসেবে গত ডিসেম্বরে ওই অঞ্চলে পরিদর্শন যান তিনি।

আমরা ৮০ জনের বেশি নিহত হওয়ার তথ্য পেয়েছি। তাঁদের মধ্যে ৪৫ বছর বয়সী মানুষ থেকে শুরু করে ২ বছরের শিশুও রয়েছে।
অ্যারন ম্যাশো, ইএইচআরসির মুখপাত্র ও জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা

ইথিওপিয়ার বিরোধীদলীয় রাজনীতিকেরা বলছেন, ওই অঞ্চলে যে সহিংসতা চলছে, তার মূলে রয়েছে জাতিগত গুমুজ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আমহারাসহ স্থানীয় অন্যান্য জাতিগত গোষ্ঠীর বিরোধ।

মঙ্গলবারের হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের একজন আহমেদ ইয়ামাম গতকাল বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, তিনি ৮২ জনের লাশ গুনেছেন। হামলায় আহত হয়েছেন আরও ২২ জন। হামলাকারীরা প্রধানত ছুরি ও তির নিয়ে হামলা চালায়। ব্যবহার করা হয় আগ্নেয়াস্ত্রও। হামলাকারীরা বাড়িঘরও জ্বালিয়ে দিয়েছে।

তাইগ্রের শাসক দলের তিন সদস্যকে হত্যা
ইথিওপিয়ার সরকার গতকাল টুইটারে বলেছে, সেনাবাহিনী তাইগ্রে অঞ্চলের শাসক দল তাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) তিন কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে। আত্মসমর্পণের নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করায় তাঁদের হত্যা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছেন দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেয়ম মেসফিনও। দলটির পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়েছে।

টিপিএলএফের বিরুদ্ধে গত নভেম্বরে অভিযান শুরু করেছে ইথিওপিয়ার সরকার। সেনাবাহিনী ও টিপিএলএফের মধ্যে লড়াইয়ে কয়েক শ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সংঘাতে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ এবং সুদানে পালিয়ে গেছে একদল শরণার্থী।

১৯৯১ সালে টিপিএলএফের নেতৃত্বে ইথিওপিয়া থেকে সামরিক সরকার উৎখাত করা হয়। ২০১৮ সালে আবি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগপর্যন্ত দেশটির রাজনীতিতে নিয়ন্ত্রণ ছিল এ গোষ্ঠীর। তবে এরপর থেকে গোষ্ঠীটির নেতারা অভিযোগ করে আসছেন, আবি তাঁদের এড়িয়ে চলেছেন। দেশের দুর্দশাময় পরিস্থিতির জন্যও আবি সরকারকে অভিযুক্ত করেন তাঁরা। আর তখন থেকেই শুরু আঞ্চলিক নেতৃত্ব ও ফেডারেল সরকারের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন