default-image

ইথিওপিয়ায় ৭৬ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে দেশটির তাইগ্রে অঞ্চলের প্রধান রাজনৈতিক দল তাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই দলটির অনুগত সৈন্যরা সরকারি বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করছে।

ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ বলেছেন, দেশটির সেনাবাহিনী তাইগ্রের রাজধানী মেকেলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে দুই সপ্তাহের বেশি চলা এ লড়াইয়ে কয়েক শ মানুষ মারা গেছেন এবং হাজারো মানুষ এলাকা ছেড়েছেন।

ওই অঞ্চলের সব যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সঠিক তথ্য পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আবি আহমেদ ক্ষমতায় আসার পর আফ্রিকার এই দেশে রাজনৈতিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন শুরু করেন। প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গে দুই দশক ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটে তাঁরই হাত ধরে। ফলে ক্ষমতায় আসার মাত্র এক বছরের মাথায় নোবেল শান্তি পুরস্কার পান আবি।

প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় আবি আহমেদ প্রশংসিত হলেও নিজ দেশের উত্তেজনাপূর্ণ অঞ্চল তাইগ্রেতে শান্তি ফেরাতে তেমন পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ। উল্টো ব্যাপক রাজনৈতিক সংস্কারের নামে তাইগ্রের অধিবাসীদের কোণঠাসা করে ফেলেন বলে অভিযোগ ওঠে আবির বিরুদ্ধে।

এই ঘটনা ইথিওপিয়ার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বজায় রাখা তাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট পার্টির সঙ্গে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধ উসকে দেয়। শুরু হয় টিপিএলএফের বাহিনীর সঙ্গে ইথিওপিয়া কেন্দ্রীয় বাহিনীর রক্তক্ষয়ী সংঘাত।

করোনাভাইরাস সংকটের কারণে গত জুন মাসের জাতীয় নির্বাচন বন্ধ রাখেন আবি। এরপর থেকে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়। টিপিএলএফ কেন্দ্রীয় সরকারকে অবৈধ বলছে। তাদের যুক্ত আবি আহমেদ দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বৈধ নন।

সরকার টিপিএলএফকে সামরিক স্থাপনায় আঘাত হেনে অস্ত্র লুটের অভিযোগ এনেছে। তবে টিপিএলএফ তা অস্বীকার করেছে। এরপর আবি আহমেদ ওই দলটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গতকাল বুধবার দেশটির কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনী ৭৬ সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এসব কর্মকর্তা সম্প্রতি অবসরে যান। তাঁদের বিরুদ্ধে টিপিএলএফের সঙ্গে মিলে ষড়যন্ত্রের ও বিশ্বাসঘাতকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে ইথিওপিয়ার প্রতিবেশী দেশ সুদানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লড়াইয়ের কারণে ইথিওপিয়া থেকে ৩৬ হাজার মানুষ শরণার্থী হিসেবে সে দেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) বলেছে, ইথিওপিয়ায় চরম মানবিক সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0