জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ইয়েমেনের ক্ষমতা দখলকারী হুতি শিয়া বিদ্রোহীদের অবিলম্বে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে। শুক্রবার পরিষদ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। এদিকে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো বিদ্রোহীদের ক্ষমতা দখলের পরিপ্রেক্ষিতে আরও জোরদার আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। খবর বিবিসির।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদেশগুলো ইয়েমেনের বর্তমান পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সব পক্ষকে জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। এ ছাড়া তারা দেশটির প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের গৃহবন্দিত্ব থেকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হুতি মিলিশিয়াদের দেওয়া ঘোষণা ইয়েমেনের রাজনৈতিক সংকটের একটি সর্বসম্মত সমাধানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।
উপসাগরীয় দেশ বাহরাইন, ওমান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও সৌদি আরব বর্তমান ঘটনাপ্রবাহে উদ্বেগ জানিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো ভূমিকা রাখা উচিত বলে তাঁরা মনে করেন। তিনি বলেন, ‘সংকটে ইরানের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও এ দেশগুলোর কেউই দেশটির সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে কিছু বলেনি।’
এর আগে শুক্রবার হুতি বিদ্রোহীরা দেশটির পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করে এবং পাঁচ সদস্যের একটি প্রেসিডেনশিয়াল কাউন্সিল গঠনের কথা ঘোষণা করে। হুতিরা বলেছে, এই কাউন্সিল অন্তর্বর্তী দুই বছরের জন্য দেশ পরিচালনা করবে। এ ছাড়া বর্তমান আইনসভার স্থানে ৫৫১ সদস্যের জাতীয় পরিষদ গঠনেরও ঘোষণা দেয় বিদ্রোহীরা।
ইয়েমেনের বিরোধী দলগুলো এই ঘোষণাকে অভ্যুত্থান হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার রাজধানী সানায় রিপাবলিকান প্রাসাদের সামনে হাতে একটি তৈরি বোমার বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে প্রাসাদটি পাহারায় নিযুক্ত তিন হুতি বিদ্রোহী আহত হয়েছে।
দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এডেনের গভর্নর আবদেল আজিজ বিন হাবতুর বিদ্রোহীদের ঘোষণাকে ‘সংবিধানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন
আফ্রিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন