default-image

দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনা সংক্রমণের হার আগের তুলনায় ব্যাপক হারে কমেছে। টানা এক বছর করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ক্লান্ত স্বাস্থ্যকর্মীরা বিষয়টি এখন উদযাপন করছেন। দেশটিতে সরকারিভাবে এ–ও ঘোষণা করা হয়েছে যে করোনার নতুন ধরন এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, গত রোববার দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা ঘোষণা দিয়ে জানান, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সমাপ্তি ঘটেছে। করোনাভাইরাসের নতুন ধরনের কারণে এটি সৃষ্টি হয়েছিল। আগেরটির তুলনায় করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ছিল তুলনামূলক বেশি সংক্রামক। দেশটির করোনা সংক্রমণের প্রতিদিনের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ৭ জানুয়ারি যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ২১ হাজারের বেশি ছিল, সেখানে এ সপ্তাহে তা ৫০০-এর নিচে চলে এসেছে।
প্রেসিডেন্ট রামাফোসার এই ঘোষণা ছিল অনেক স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য আনন্দের সংবাদ। করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন তাঁরা। এবার সরকারি ঘোষণায় কিছুটা হলেও স্বস্তি পাচ্ছেন তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

জোহানেসবার্গের পশ্চিমে এক উপশহরের থেমবিসা হাসপাতালের নার্স কন্সট্যান্স ম্যাথিবেলা এএফপিকে বলেন, ‘আমরা এখন বিশ্বাস করি যে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা বেশ নিচে নেমে গেছে এবং রোগীরা এখন আর অসুস্থ নেই।’ দেশটিতে মহামারি আঘাত হানার পর হাসপাতালটি প্রতিদিন রোগীতে প্রায় পূর্ণ থাকত বলে তিনি জানান। ম্যাথিবেলা আরও বলেন, ‘কোভিড ওয়ার্ড খালি রাখার মতো সুযোগই আমাদের ছিল না।’

গত বছর ৫ মার্চ দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হন। করোনার দুই ঢেউয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে দেশটি। দেশটিতে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হন এবং মারা যান ৫০ হাজারের বেশি, যা গোটা আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ।

গত মাসে দক্ষিণ আফ্রিকায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। তবে করোনার আরেকটি সম্ভাব্য ঢেউ দেশটিতে হানা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, আগামী মে বা জুন মাসের দিকে আফ্রিকার দেশটিতে করোনার নতুন ঢেউ মাথাচাড়া দিতে পারে।

আফ্রিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন