default-image

কেনিয়ার উত্তরাঞ্চলে আল-কায়েদাসংশ্লিষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী আল-শাবাবের শক্তি-প্রভাব-প্রতিপত্তি দিন দিন বাড়ছে। জঙ্গিদের তৎপরতার কারণে অঞ্চলটির সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়ের পাশাপাশি হতাশা বাড়ছে। আজ বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

খবরে বলা হয়, আল-শাবাবের তৎপরতার মুখে অঞ্চলটি থেকে শিক্ষকেরা অন্যত্র চলে গেছেন। শিক্ষক না থাকায় স্কুলগুলো বন্ধ রয়েছে।

অঞ্চলটির সাধারণ মানুষের জন্য ঘরের বাইরে বের হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, বাইরে বের হলেই জঙ্গিদের সশস্ত্র হামলার মুখে পড়ার আশঙ্কা আছে। আছে সড়কের ধারে পুঁতে রাখা বোমা হামলার শিকার হওয়ার শঙ্কা।

জঙ্গিদের কারণে অঞ্চলটির টেলিযোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। জঙ্গিরা প্রায় নিয়মিত মোবাইল ফোনের টাওয়ার ধ্বংস করছে।

সোমালিয়া ও ইথিওপিয়ার সীমান্তবর্তী কেনিয়ার এ অঞ্চলে আল-শাবাবের নিয়ন্ত্রণ দিন দিন বাড়ছে বলে সম্প্রতি দেশটির স্থানীয় এক গভর্নর সতর্ক করেন।

অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে গভর্নর আলী রবা অনেকটা অসহায় হয়ে সহায়তা চেয়ে সংবাদপত্রে চিঠি লেখেন।

দ্য স্ট্যান্ডার্ড নামের সংবাদপত্রে গত জানুয়ারি মাসে গভর্নর আলী রবার একটি দীর্ঘ চিঠি প্রকাশিত হয়। চিঠিতে তিনি অকপটে স্বীকার করেন, জঙ্গিদের রুখতে তাঁর প্রশাসন খুব বাজেভাবে ব্যর্থ হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

জঙ্গিদের তৎপরতা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা বোঝাতে নানা উদাহরণ দেন গভর্নর। এ প্রসঙ্গে তিনি আল-শাবাবের সাম্প্রতিক কিছু হামলার কথা উল্লেখ করেন।

গভর্নর বলেন, আল–শাবাবের জঙ্গিরা সম্প্রতি একটি অ্যাম্বুলেন্সে হামলা করে। অ্যাম্বুলেন্সটি একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীকে বহন করছিল।

গত ডিসেম্বরে জঙ্গিরা এক স্থানীয় প্রধানের শিরশ্ছেদ করে। তারা তাঁর মাথা ছিন্ন করে জঙ্গলে ছুড়ে ফেলে।

গভর্নর উল্লেখ করেন, জঙ্গিরা পুলিশের তল্লাশিচৌকিতে হামলা করছে। মোবাইল ফোনের টাওয়ারে হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করছে। এ কারণে এলাকাটির লোকজন যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।

গভর্নর বলেন, ম্যান্ডেরা এলাকার হাইওয়ে এখন জঙ্গিরা নিয়ন্ত্রণ করছে। এ কারণে যারা এই হাইওয়ে দিয়ে চলাচল করছে, তারা জঙ্গিদের হয়রানি-হামলার শিকার হচ্ছে। সড়কে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জঙ্গি হামলার নিশানা হচ্ছেন।

গভর্নর জানিয়েছেন, নিরাপত্তাহীনতার কারণে তাঁর কাউন্টির ১২৬টি স্কুল এখন পর্যন্ত খোলা সম্ভব হয়নি।

সোমালিয়ার জঙ্গিগোষ্ঠী আল-শাবাবের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে কেনিয়ার উত্তরাঞ্চলের ম্যান্ডেরা এলাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘মাঝেমধ্যে মনে হয়, আমরা যেন সোমালিয়ায় আছি। কারণ, অন্য দেশ থেকে জঙ্গিরা আমাদের দেশে মুক্তভাবে ঢুকে তৎপরতা চালাচ্ছে। আমরা কেনিয়ার বাদবাকি অংশের মতো থাকতে চাই। সীমান্তে থাকাটা অভিশাপ হওয়া উচিত নয়।’

আফ্রিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন